
সোনারগাঁ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার এএইচ এম খোরশেদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সাথে অসদাচরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত ১৫ জুলাই সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার শিক্ষকরা।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক সোনারগাঁও শাখাতে উপজেলার ৮৫০ জন শিক্ষকের বেতনের হিসাব ও ৪৫০ জন শিক্ষকের ব্যক্তিগত ঋণ হিসাব রয়েছে। তারা সোনালী ব্যাংকে বেতন উত্তোলন ও ঋণের বিষয়ে পরামর্শ করতে ম্যানেজারের কাছে গেলে তিনি তাদের সাথে খারাপ ও রুঢ় আচরন করেন। তাদের কাজে সহযোগিতা না করে চিৎকার, চেচামেচি ও গালাগালি করেন। এতে শিক্ষকদের মানহানি হয়েছে। তাই তারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার সিধান্ত নিয়েছি বদ মেজাজী, রুড় আচরনকারী, হীনমনের ম্যানেজারকে অন্যত্র বদলীর তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা না নিলে, শিক্ষকদের সকল সঞ্চয়ী হিসাব ও ঋণ হিসাব তারা সোনালী ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করতে বাধ্য হবেন।
সোনালী ব্যাংক সোনারগাঁও শাখা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই সোনালী ব্যাংক পিএলসি শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে সোনারগাঁও শাখা প্রধান এএইচ এম খোরশেদকে মুন্সিগঞ্জ প্রিন্সিপাল অফিসে বদলি করা হয়। কিন্তু গত ১০ জুলাই ওই বদলি আদেশ গোলাম মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত আরেক চিঠিতে স্থগিত করা হয়।
অভিযোগকারী শিক্ষক মো:মাসুদ বলেন, আমি সহ আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে রুঢ় আচরনকারী, বদ মেজাজী ও হীনমনের ম্যানেজারকে এখান থেকে বদলি করে পূর্বের ন্যায় ম্যানেজার নিয়োগ করতে হবে। তা না হলে আমরা আমাদের সকল হিসাব অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করবো।
ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বি আর বিলকিস বলেন, আমি একজন প্রধান শিক্ষক, স্কুলের একটি চেকের সমস্যা নিয়ে ম্যানেজারের নিকট গিয়ে সালাম দিলে তিনি জবাবও দেননি এবং তার কক্ষেও প্রবেশ করতে বলেননি। আমার শিক্ষকতার জীবনে এমন অসদারন আগে কখনো পায়নি।
গ্রাহক সাবিহা সুলতানা বলেন, আমার মা মারা যাওয়ায় নমিনীর টাকা তুলতে ভাইকে নিয়ে সোনালী ব্যাংকে যাই। এই ব্যাংক ম্যানেজার আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করে আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে অপমান অপদস্ত করে ব্যাংক থেকে বের করে দেয়। আমি এর বিচার চাই।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, তিনি কোনো অফিসারকে নির্ধারিত কোনো ডেস্কে কাজ করতে দিতেন না। আজকে এক ডেস্কে হলে কাল অন্য ডেস্কে কাজ করতে হয়। এতে ব্যাংকের নিয়ম শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। এছাড়া প্রায় তিনি গ্রাহকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।
এবিষয়ে সোনালী ব্যাংকের সোনারগাঁও শাখা প্রধান(ম্যানেজার) এ এইচ এম খোরশেদ মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষকদের সাথে ঋণের বিষয়ে কথাকাটি হয়েছে কোনো খারাপ আচরণ করেনি। ইতিমধ্যে শিক্ষকদের সরি বলেছি। এছাড়া সাবিহা নামের যে গ্রাহক নমিনীর টাকা তুলতে এসেছেন তার কাছে সময় চেয়েছিলাম কিন্তু তিনি চেচামেচি করায় নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে ব্যাংক থেকে বের করে দিয়েছি। আমি কাউকে ঘাড় ধাক্কা দেওয়া হয়নি।