সোনারগায়েঁ ওসি-এসআই‘র অপসারন দাবী যুবলীগ নেতা স্বপনের

সোনারগাঁ(আজকের নারায়নগঞ্জ):  সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোর্শেদ আলম ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাধন বসাকের অপসারণ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম স্বপন।

সোমবার (২২ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, তার ভায়রা আনিসুর রহমান ও সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি মাসুম চৌধুরি। এর আগে জাহিদুল ইসলাম ওসি মোর্শেদ আলম ও এসআই সাধন বসাকের বিরুদ্ধে থানায় নিয়ে বেআইনীভাবে মারধর করা ও ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ এনে আদালতে একটি মামলাও করেছেন।

আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে এএসপি পদমর্যাদার নিচে এমন কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এসপিকে নির্দেশ দেন।

এই মামলার সুষ্ঠ তদন্তের দাবিতে ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে সোনারগাঁ থানার ওসি মোর্শেদ আলম ও এসআই সাধন বসাকের অপসারণ দাবি করেন ব্যবসায়ী স্বপন।
জাহিদুল ইসলামের দাবি, সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই (সেকেন্ড অফিসার) সাধন বসাক কোন প্রকার গ্রেপ্তারী পরোয়ানা, সমন বা অভিযোগ ছাড়াই গত ৭ অক্টোবর রাতে গ্রেপ্তার করে জাহিদুল ইসলাম স্বপন ও তাঁর ভায়রা আলমগীর ও ভাগীনা বাবুলকে। গ্রেপ্তারের পর রাতে সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের এপিএস ও যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম স্বপনকে বেধরক মারধর করেন, পরে চোঁখ বেধে লাঠি দিয়ে মারাত্মক ভাবে পিঠিয়ে আহত করেন ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই (সেকেন্ড অফিসার) সাধন বসাক।

এসআই সাধন বসাক ও অফিসার ইনচার্জের নির্যাতনে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ও অবস্থা সংকটাপন্ন হলে রাত ৩টা ৪০ মিনিটে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে তার জ্ঞান ফিরে আসার পর পুনরায় তাকে থানায় নিয়ে এসআই সাধন বসাক লাঠি দিয়ে পেটান। পরের দিন বিকেল ৪টায় সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতির জিম্মায় সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাহিদুল ইসলাম স্বপন বলেন, সোনারগাঁয়ে আমার জমিকে নিজের জমি বলে দাবি করে জাফর ইকবাল নামে এক ব্যক্তি। জাফর ইকবালের পক্ষ নিয়ে ওসি মোর্শেদ আলম ও এসআই সাধন বসাক আমাকে সহ আমার ভায়রা ও ভাগীনাকে থানায় নিয়ে গিয়ে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে তিনি ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদাও দাবি করেন। এ বিষয়ে আমি আদালতে মামলা করলে ওসি বিভিন্ন লোক পাঠায় আমার বাড়িতে। তারা আমাকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে শাসায়।

তিনি আরো বলেন, সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন চন্দ্র বসাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে এএসপি পদমর্যাদার নিচে এমন কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এসপিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আমি মনে করি ওসি ও এসআই সোনারগাঁ থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত হবে না। কেননা তারা তাদের প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করবেন। এছাড়া আমাকে আবারো নির্যাতন কিংবা কোন মামলার বেড়াজালে ফাসাতে পারে।

তাই অভিযুক্ত ওসি ও এসআইকে সোনারগাঁ থানা থেকে অন্য কোন থানায় অপসারণ করার দাবি জানান স্বপন।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ক্রয়কৃত জমির সকল কাগজপত্র আমার কাছে আছে। জাফর ইকবাল ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ওই জমি নিজের বলে দাবি করছে। ওসি মোর্শেদ আলম জাফর ইকবালের পক্ষ নিয়ে আমার উপর অত্যাচার চালিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ওসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পর গত ১৪ অক্টোবর পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন।