নামহীন

– গাজী নাজমুল আলম

একটা প্রচণ্ড শব্দ !
কান বিদীর্ণ করা একটা বজ্রপাত !
গগণ বিদারী আওয়াজে
আমার চৈতন্য ভূমিষ্ঠ হলো আঁতুড়ঘরে !
হঠাৎ পাওয়া অসীম শূণ্য হতে আসা
কোন স্বপ্নচারিণীর সুখভোগের স্পর্শে জাগা কোন চৈতন্য নয় !
অমানিশায় গহীন অরণ্য থেকে
উৎকট বুনো ঘ্রাণ নিয়ে ভেসে আসা
বিভৎস বিদঘুটে এক আর্তনাদ !
প্রসব বেদনায় কাতর কোন রমণীর
জীবন বাজী রাখা, ঘামে ভেজা চিৎকার!
মৃত্যু দানবের বুকের খাঁচা হতে,
শরীরের সকল শক্তি দিয়ে বেরিয়ে আসার প্রকান্ড এক চিৎকার !
আমার সমস্ত, চেতনাহীন পড়ে ছিলো
ধুলোময়লার স্তুপে !
পড়ে ছিলো যত্নের পুরু আস্তরণের পারিপাট্য নিয়ে!
আস্তাকুঁড়ে শেয়াল কুকুর আর উচ্ছিষ্ট খাওয়া
কীটপতঙ্গের সঙ্গে ছিলো আমার বসবাস।
আমি সদ্যোজাত। আমি নামহীন।
আমায় যে নামেই ডাকা হোক
আমার গায়ের দুর্গন্ধে সমাজপতিরা
নাকে রুমাল দিয়েছে এদিক ওদিক তাঁকিয়ে!
কিছু মানুষ তাঁকিয়েছে আড়চোখে!
কিছু মানুষ তাঁকিয়েছে করুণা নিয়ে!
কিছু মানুষ নৈঃশব্দে সরে গিয়ে বেঁচেছে!
আমার আশ্রয় জোটেনি ভালোবাসার উষ্ণ চাদরে!
আমি অনাশ্রিত, অনাহূত কোন নরম কোলে!
আমার আদর ছিলো জিভ চাটা কুকুরের লেহনে!
কেউ জানবে না আমার ধমনিতে কোন রক্ত প্রবাহিত!
রক্তজবার লাল আভায় আভিজাত্য লুকিয়েছে!
লোহিত রঙের আড়ালে পরিচয়টার অপঘাত মৃত্যু হয়েছে,
মৃত্যু হয়েছে, আমার আজন্ম পাপের গহ্বরে!