ভোট দিলে আবার আসবো, না দিলে আফসোস নেই- প্রধানমন্ত্রী

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে, দেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে নৌকায় ভোট দেবেন। ভোট দিলে আবার আসবো না দিলে আফসোস নেই। কারণ আমার লক্ষ্য ছিল টানা ক্ষমতায় থাকতে পারলে উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে। আমাদের সে আশা পূরণ করেছি। নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতুর তৈরির যে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি এই একটি সিদ্ধান্ত সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে।
শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি বাড়বে। গ্রাম পর্যন্ত মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটাতো ধরে রাখতে হবে। কাজেই বাংলাদেশের জনগণ যদি মনে করে এই উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে হবে। আমি আশা রাখি নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও তাদের সেবা করার সুযোগ দেবে। বাংলাদেশকে উন্নয়নের যে ধারাটা আমরা শুরু করেছি, আমি চাই সেই ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে আপনারা সেটা দেখবেন। সামনে নির্বাচন রেখে সকলেই ভোট চায়। আমরাও ভোট চাই। যাতে করে উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখে।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই, যাতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চলমান গতি বজায় থাকে এবং আমাদের শুরু করা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো শেষ করা যায়। কারণ, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারার কারণে আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল।

সরকারের বর্তমান আমলে নেয়া নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩২০০ মেগাওয়াট পাওয়ার থেকে আমরা এখন ২০০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য আরও অনেক বেশি। এভাবে সর্বক্ষেত্রে আমরা যে কাজ করে যাচ্ছি উন্নয়নের জন্য। আজকে আমরা খাদ্যে স্বয়ং সম্পন্ন। স্বাক্ষরতা হার ৭৩ ভাগে উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছি। উচ্চ শিক্ষায় লোন দেই যাতে আমাদের ছেলে মেয়েরা কারিগরি শিক্ষা যাতে পায়, বিজ্ঞান প্রযুক্তি যাতে পায় তারও ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিনি বলেন, গবেষণায় একটি টাকাও ছিল না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নেহায়েত যতটুকু প্রয়োজন সেইটুকু তারা গবেষণা করতেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম গবেষণায় থোক বরাদ্দ দেই, প্রথমবার ১২ কোটি টাকা দেই। পরের বাজেটে আমরা গবেষণা ও প্রযুক্তিখাতে ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ আলাদাভাবে রাখতাম।
কোনও মহৎ অর্জনের জন্য মহান ত্যাগের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমরা তো কখনও নিজের চিন্তা করতে শিখিনি। আমরা যা শিখেছি বাবার কাছ থেকে শিখেছি। যতটা সেক্রিফাইস করা যায়, কোনও মহৎ অর্জনের জন্য মহান ত্যাগের প্রয়োজন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কারিগরি শিক্ষা ও বিজ্ঞান শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা দিয়ে বসে নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য যা যা করণীয় তার সবকিছুই আমরা করে যাচ্ছি।

জাতির পিতা শিক্ষাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা শিক্ষাকে অবৈতনিক ঘোষণা করেছিলেন। সংবিধানে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। শিক্ষার মাধ্যমে জাতিকে তিনি উন্নত করতে চেয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা করেছি। আমরা শিক্ষানীতি তৈরি করি। আমরা মানুষের মধ্যে শিক্ষার আগ্রহ বাড়াতে কাজ করেছি।