নওগাঁর বেইলী ব্রীজের রাস্তায় রক্ষক যখন ভক্ষক!

 

মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রানীপুকুড়- বেইলী ব্রীজ এলাকায় (নওগাঁ-রাজশাহী) হাইওয়ে রোডে সন্ধ্যার পর হতে গভীর রাত পর্যন্ত নিরাপদে পথ চলতে এবং নিরাপত্তা প্রদানের অজুহাতে সিন্ডিকেটকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।

অসহায় পথযাত্রীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি পেরেশানী করতে মোটরসাইকেল, সিএনজি, ভুটভুটি,ট্রলি, চার্জার,ট্রাক্টর ও পিকঅাপ গাড়ির ড্রাইভারদেরকে জিম্মিকরে কাগজপত্র দেখার নাম করে প্রতিনিয়ত চলছে চাঁদাবাজি বলে জানান একাধিক ভূক্তভুগী চালক এবং প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা।

বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর এবং দু:খজনক হওয়ায় কেউ কেউ বলেন যে, এসব সমস্যার কথা বলি কার কাছে?

গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তায় চলাচলের সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হতে নিরাপদে নির্বিঘ্নে গন্তব্যস্থলে পৌঁছার জন্য টহল পুলিশদের সহযোগীতা নিয়ে থাকে সাধারন পথচারিরা।

অথচ,তাদের প্রশ্নবিদ্ধ বৈরী অাচরনের কারনে অাজ সাধারন পথচারীরা এবং ওইসকল ভূক্তভুগী গাড়ির চালকেরা রাস্তায় চলাচলের সময় না কি মাথার ভিতরে শুধুই চিন্তা, ভয় অার অাতংক কাজ করে যে, এই রাস্তা দিয়েইতো বাড়িতে বা গন্তব্যস্থলে যেতে হবে এই রাস্তায় অাবার পুলিশ অাছে না-কি?

তাদের অাতংকিত হবার পেছনে একটাই কারন অার সেটি হচ্ছে যে,১০,২০,৫০,১০০,২০০,৫০০ যার কাছে যা অাছে তা বিভিন্নভাবে চাপাবাজি করে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে কেড়ে নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন ভূক্তভুগী ভুটভুটি চালক অালমগীর এবং পথচারী জাকির হোসেনসহ অারো অনেকে।

তাদের ক্ষোভ যে, রাস্তায় নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রশাসনের লোকজন অনেক সময় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা বলে অযথায় সাধারন যাত্রীদের বিড়াম্বনাকর অবস্থায় ফেলে রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে তাদের ইচ্ছামত দেহ তল্লাশি করে থাকে ।

অাবার গাড়ির কাগজপত্রের যেকোনো একটি ভুল ধরে টাকা দাবি করে বসে।

টাকা দিতে না চাইলে তারা চালক এবং সাধারন যাত্রীদের পাকড়াও করে ধরে নিয়ে যেতে অথবা মামলা দেয়ার হুমকি দিয়ে থাকে।

অনেক ড্রাইভারের দাবি, অামরা সারাদিন গাড়ি চালিয়ে যে পরিমান টাকা অায় করি তার একটা অংশ ভয়ে এবং বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেতে এসব অাচরনের কোনো প্রতিবাদ না করে বাধ্য হয়ে তাদের চাহিদামতো টাকা চাঁদা দিতে হয়। গাড়ি ধরা মাত্র টাকা দিতে পারলেই ভালো, অার দিতে না পারলেই মহাবিপদ। জালার শেষ থাকেনা।

বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।