মুখে স্কচটেপ মারা বস্তাবন্দি জুঁই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায় ’

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি(আজকের নারায়নগঞ্জ): রূপগঞ্জে শিশু জুঁই আক্তার হত্যার ঘটনায় ২ জনকে নামসহ আরো ৮ জন অজ্ঞাতনামা আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার সকালে নিহত শিশুর পিতা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ ঘটনায় খয়বর হোসেন (৩২) নামে এক জনকে গ্রেফতার করেছেন।

ঘাতক খয়বর হোসেন আনোয়ার হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া । ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে খয়বরের ছোটভাই ও প্রধান ঘাতক শাহজালাল ও তার সহযোগী আশরাফুল। পুলিশ খয়বরের বসতঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫টি ধারালো দেশীয় অস্ত্র।

জুইয়ের পিতা আনোয়ার হোসেন জানান, গত ৮ বছর ধরে তার বাড়িতে ভাড়া থাকতো কুড়িগ্রামের বুড়িঙ্গামারী থানাধীন দক্ষিন দলডাঙ্গা এলাকার ছোমেদ আলীর ছেলে খয়বর হোসেন। কিছুদিন আগে তার আরেকটি কক্ষ ভাড়া নেয় খয়বরের ছোটভাই শাহজালাল।

বৃহস্পতিবার টাকার লোভে খয়বর, শাহজালাল এবং তাদের বন্ধু আশরাফুল মিলে তার মেয়ে জুইকে অপহরন করে খয়বরের ঘরে লুকিয়ে রাখে। এসময় তারা খোঁজাখুজি শুরু করলে মুখে স্কচটেপ মেরে বস্তায় পুড়ে রাখে তারা। পরে মুক্তিপণের জন্য ফোন করে। এদিকে বস্তাবন্দি থাকায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায় জুই। রাতেই বাড়ির পাশে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় শাহজালাল ও আশরাফুল। শুক্রবার দুপুরে আটক হয় খয়বর। পরে শনিবার বিকেলে তার বসতঘরে তল্লাশী চালিয়ে ৫টি ধারালো রামদা উদ্ধার করে ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশ।

ভুলতা পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ভুলতা ইউনিয়নের টেকপাড়া গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে জুঁই আক্তার (৩) বাড়ির পাশে খেলতে গেলে একদল অপহরনকারী তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। দুপুর ২টায় অপহরণকারীরা তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে অপহৃত জুঁইয়ের পিতা আনোয়ার হোসেনের মোবাইলে মুক্তিপণের জন্য ৫ লাখ টাকা দাবি করে ফোন করে। এসময় তারা এ ঘটনায় থানা পুলিশের আশ্রয় নিলে অথবা মুক্তিপণের টাকা দিতে বিলম্বিত করলে জুঁইকে হত্যা করা হবে হুমকি প্রদান করেন। শুক্রবার সকালে আনোয়ার হোসেনের বাড়ী পাশে হাত পা বাঁধা মুখে স্কচটেপ পেচানো বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু জুঁইয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, শিশু জুই হত্যার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজন আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।