নবজাতকসহ লাফিয়ে পড়ে প্রসূতি মায়ের আত্নহত্যা!

সারাবাংলা(আজকের নারায়নগঞ্জ): ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ছাদ থেকে চার দিনের ছেলে সন্তানকে ফেলে লাফ দিয়ে আত্নহত্যা করেছেন সীমা আক্তার (২৫) ।

শুক্রবার(১৯ অক্টোবর) সকালে শহরের পুরাতন জেলরোড এলাকার লাইফ কেয়ার হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সীমা সদর উপজেলার ঘাটিয়ার গ্রামের প্রবাসী মনির মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সীমাকে গত ১৬ অক্টোবর পরিবারের লোকজন বাচ্চা প্রসব করার জন্য লাইফ কেয়ার নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করে সে। শুক্রবার সকাল ১০টায় হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে চলে যাওয়ার আগেই পাশের একটি হাসপাতালের ছাদে উঠে প্রথমে নবজাতককে ফেলে দিয়ে পরে নিজে আত্মহত্যা করেন।

পুলিশ ধারনা করছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে সীমা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

আখাউড়া উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের বিল্লাল মিয়ার মেয়ে সীমা। তার স্বামী লেবানন প্রবাসী মনির হোসেন। এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে মোবাইলে কয়েক দফা ঝগড়া হয় সীমার। সন্তান জন্মের পর শ্বশুরবাড়ির কেউ দেখতে না আসা নিয়ে এই ঝগড়া হয়।

ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পড়েছেন সীমার মা রেহেনা বেগম। মেয়ের সঙ্গে তিনি হাসপাতালেই ছিলেন।

তিনি জানান, তরকারি গরম করতে তিনি বেরিয়েছিলেন। ফিরে এসে সীমা ও তার সন্তানকে কক্ষে দেখতে পাননি। এদিক সেদিক খুঁজেছেন। একটু পর মেয়ে ও নাতির মৃত্যুর খবর পান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছেন। তাদের ধারনা মেয়েটি কোন কারণে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে থাকতে পারে। স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া এবং হাসপাতালের বিল নিয়ে কোন সমস্যা হয়েছিলো কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। এ ব্যাপারে সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মা এবং সন্তানের লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।