প্রকাশ্যে ক্ষমাসহ ব্যারিস্টার মইনুলকে গণমাধ্যমে নিষিদ্ধের দাবি

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে তাঁর অপরাধ স্বীকারপূর্বক নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে তিনি এরকম ব্যক্তি আক্রমণ থেকে বিরত থাকবেন বলে লিখিত দেবেন।

এই দুটি দাবি অতি দ্রুত না মানলে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নারী সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে ব্যারিস্টার মইনুলকে গণমাধ্যমে নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার(১৮ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে নারী সাংবাদিককে ‘চরিত্রহীন’ বলার প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাছিমা আক্তার সোমা, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুমান আরা শিল্পী। সাংবাদিকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্নী সাহা, মিথিলা ফারজানা, নাসিমা খান মন্টি, শাহনাজ মুন্নী, ফারজানা রূপা, সুপ্রীতি ধর, আঙ্গুর নাহার মন্টি, ফারহানা মিলি, নাদিরা কিরণ, মুনমুন শারমিন শামস, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ।

নারীদের পক্ষে বিবৃতি তুলে ধরে নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের একটি আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক আমাদের অর্থনীতির নির্বাহী সম্পাদক মাসুদা ভাট্টি ও বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত। উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে যুক্ত করার পর মাসুদা ভাট্টি তাঁকে একটি প্রশ্ন করতে চান এবং জানতে চান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আপনাকে শিবিরের একটি জনসভায় অংশ নিতে দেখা গেছে। সে কারণে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন যে, আপনি কি জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে উপস্থিত থাকছেন কিনা।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রশ্নটি শেষ করার আগেই ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং বলেন, আপনার সাহসের প্রশংসা করতে। তবে, আমি আপনাকে একজন চরিত্রহীন বলতে চাই। কোনো রকম উসকানি ছাড়াই তিনি মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলেন। এরপরই সাংবাদিক সমাজের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সাংবাদিকরা কি জিনিস, সেটা তিনি জানেন। মাসুদা ভাট্টি অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে তাকে প্রশ্ন করেন এবং এরকম ন্যাক্কারজনক মন্তব্যের পরও তিনি এই ব্যক্তিকে কোনো কটূক্তি করেননি।’

নাসিমুন আরা আরও বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে, ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের এই বক্তব্যকে বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দেওয়া যায়। কারণ আমরা মনে করি, মাসুদা ভাট্টি একজন নারী বলেই সরাসরি তাঁকে চরিত্রহীন বলার ধৃষ্টতা

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন ব্যক্তিগতভাবে মাসুদা ভাট্টির কাছে ক্ষমা চাইলেও সেই ক্ষমা যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করে নাসিমুন আরা নারীদের পক্ষ থেকে দু’টি দাবি তুলে ধরেন। এই দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে না মানলে আইনের আশ্রয়ের নেওয়ার হুঁশিয়ারি জানান তিনি।

প্রতিবাদ সভায় মাসুদা ভাট্টি বলেন, ‘আমার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা দিয়েই বুঝেছি যে, যুক্তিহীন মানুষই সাধারণত ব্যক্তিগত আক্রমণ করে। একজন নারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি সবসময়ে তার চরিত্রকে নির্দেশ করে আক্রমণ করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আপনিও তার ব্যতিক্রম নন। একাত্তর টকশোর উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা আপনাকে বলেছেন, আপনি ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। এটা তিনি মেনে নেবেন না। কিন্তু আপনি অত্যন্ত রূঢ় হয়ে পুরো অনুষ্ঠানে কথা বললেন। বরাবরের মতোই সেটা ছিল আক্রমণাত্মক।’

তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় যখন আপনি আমাকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে ক্ষমা চাইলেন, তখন আপনাকে আমি বলেছি, যে অন্যায় কাজটি আপনি করেছেন একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন টকশোতে, তার সাক্ষী অনুষ্ঠানটির লাখ লাখ দর্শক। তাদের অগোচরে আপনি একটি ফোন করে ক্ষমা চাইলে আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে ক্ষমা করলেও যে অগণিত নারীকে আপনি অপমান করেছেন তাদের ক্ষোভ কোনোভাবেই তাতে প্রশমিত হয় না।

যেহেতু বিষয়টি ঘটেছে জনসমক্ষে সেও তো আপনাকে আপনার বক্তব্য প্রত্যাহার পূর্বক অপরাধ স্বীকার করে সব পক্ষের কাছে প্রকাশ্যে মার্জনা চাওয়াটা কাম্য। আশা করি, আপনি আমার ও আমার মতো অসংখ্য নারীর সম্মানহানির ক্ষতের জায়গাটি উপলব্ধি করবেন এবং প্রকাশ্যে সবার কাছে ক্ষমা চাইবেন।’