এবার জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে

আইন-আদালত(আজকের নারায়নগঞ্জ):  রাজধানী ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় বেআইনিভাবে জমি দখল ও কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিক। সোমবার বিদাগত রাতে মামলাটি দায়ের করেন ওই জমির মালিক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গণস্বাস্থ্যের চেয়ারম্যান ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর নির্দেশে কয়েকজন লোক ক্রয়সূত্রে জমির মালিক মোহাম্মদ আলী গংদের মালিকানাধীন পাথালিয়া মৌজার এস.এ-৯ ও আর.এস-১৫৬ নং খতিয়ানভুক্ত এস,এ-৫২৪ ও আর.এস-১১৫০ নং দাগের ৪ দশমিক ২৪ একর জমিতে ৩টি টিনসেড ঘর নির্মাণ করে চারপাশে কাটা তারের প্রাচীর দিয়ে ভোগ দখলে থাকাবস্থায় দখলের চেষ্টা চালায়। গত রোববার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে জমির মালিকরা জমিতে আসলে গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার লোকজন উক্ত জমি তাদের প্রতিষ্ঠানের বরাবরে হস্তান্তরের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এসময় জমির মালিকরা জমি গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিকট হস্থান্তর করতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের নিকট এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। উক্ত টাকা তাদের না দিলে প্রান নাশেরও হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। মামলা নং-৪১।

এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন- আশুলিয়ার মির্জানগরের মৃত: মৌলভী আব্দুল বারেকের ছেলে গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী (৮৫), একই এলাকার মৃত: মোতাহার হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৫৭), গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক ডা. আব্দুল বারীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম শিশির (৫৫), আশুলিয়া থানাধীন টাকশুর গ্রামের মৃত: নূর মোহাম্মদের ছেলে আওলাদ হোসেন (৪৮)সহ অজ্ঞাত নামা আরও ৪/৫ জন।

মামলার বাদী মোহাম্মদ আলী জানান, জমিটি ক্রয়ের পর তিনটি টিনসেড ঘর নির্মান করে চারপাশে কাটা তারের প্রাচীর দিয়ে ভোগ দখলে থাকা অবস্থায় গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জোর করে তাদের দখলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে ২০০৩ সালের মে মাসের ১ তারিখে সাভার থানায় ৩৫ নং জিডি, একই মাসের ৩ তারিখে ১৭৮ নং জিডি ও একই বছরের আগস্ট মাসের ২ তারিখে ১১৪ নং জিডি করেছি।

একই অভিযোগে আশুলিয়া থানায় ২০০৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে ৭৮ নং জিডি একই বছরের নভেম্বর মাসের ১০ তারিখে ৩৭৭ নং জিডি ও ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসের ১ তারিখে ২২ নং জিডি দায়ের করেও তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখে ২১৪৩ নং জিডি ও এ মাসের ১৩ তারিখেও ৯৮৫ নং জিডি দায়ের পরও বিভিন্ন সময় গণস্বাস্থ্যের শিক্ষার্থীসহ বহিরাগত সন্ত্রাসী লোকজন এনে আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টাও করছে।

তিনি আরও জানান, গনস্বাস্থ্যের চেয়ারম্যনের লোকজন আমাদের ৩টি লোহার তৈরী সাইনবোর্ড, সীমনা প্রাচীর ভাংচুর করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ রিজাউল হক বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ পরবর্তীতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, পাথালিয়া মৌজার উক্ত দাগে মোহাম্মদ আলী, তাজুল ইসলাম ও আনিছুর রহমান ৪ দশমিক ২৪ একর জমি ক্রয় সূত্রে মালিক। দীর্ঘ দিন ধরেই গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।