৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ এএসআই শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে!

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ  এবার মাদক বিরোধী অভিযানের অজুহাতে ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়নগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার(১২ অক্টোবর) দুপুরে পাইকপাড়া ছোট কবরস্থান সংলগ্ন অটোরিকশা চালক  আনোয়ার হোসেন সাধুর বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদ করায় সাধুর ছেলে নাদিম(৩৩) ও বেড়াতে আসা মেয়ের জামাই সুমন(২৮)কে আটক করে থানায় নিয়ে ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোরও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনা সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ অক্টোবর) শহরের পাইকপাড়া ছোট কবরস্থান সংলগ্ন আনোয়ার হোসেন সাধুর বাড়িতে দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই শামসুজ্জামান সাদা পোশাকে সঙ্গীয় চারজন ফোর্সসহ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশ সাধুর ছেলে হোসিয়ারী শ্রমিক নাদিমকে পেটাতে শুরু করলে বাড়ির আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে এএসআই শামসুজ্জামান জানান, এই ছেলে মাদক ব্যবসা করে। মাদক উদ্ধারের জন্য তার বাড়িতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

তবে পাইকপাড়া ছোট কবরস্থান এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন সাধু অভিযোগ করে বলেন, বাসায় তল্লাশি করে কোন কিছু পায়নি। আশা সমিতি থেকে তোলা ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দারোগা শামসু। সেই টাকা ফেরত চাওয়াতে আমার ছেলে নাদিম (৩৩) ও মেয়ের জামাই সুমনকে (২৮) তুলে নিয়ে যায় দারোগা। পরে তাদের ৪০ পিছ ইয়াবা দিয়ে মামলা দেয়া হয়।

সদর থানার মামলা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সদর থানা এলাকার পাইকপাড়া ছোট কবরস্থানের সামনে থেকে ৪০ পিছ ইয়াবাসহ নাদিম ও আলী আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন সাধুর বাড়ি পাইকপাড়া ছোট কবরস্থান সংলগ্ন এলাকা ও তার বাড়ির আশেপাশের লোকজনের সাথে আলাপ করলে জানা যায় , আনোয়ার হোসেন সাধু একজন অটোরিক্সা চালক। সে এই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তারা খুবই গরীব ও নিরীহ শ্রেণির মানুষ। তার ছেলে নাদিম পেশায় একজন হোসিয়ারী শ্রমিক।

ঘটনার দিন শুক্রবার এবং জুম্মার নামাজের সময় হওয়াতে এলাকার তেমন পুরুষ আশে পাশে না থাকায় তারা তাদের নিয়ে গেছে। পুলিশ সারা ঘর তল্লাশি করে তেমন কিছু পায়নি বলে আনোয়ার হোসেন সাধুর বাড়ির আশেপাশের লোকজনও জানায়। তবু তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হচ্ছে জানিয়ে এএসআই শামসুজ্জামান নাদিম ও সুমনকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে জানতে পারি তাদের মামলা দিয়েছে।

এলাকাবাসী আরো জানায়, আনোয়ার হোসেন সাধু, স্ত্রী ও মেয়ের কান্নার ফল একদিন এএসআই শামসুজ্জামান পাবে। সে যে কাজটি করেছে তা সঠিক করেনি। আনোয়ার হোসেন সাধু কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমাদের নিরীহ মানুষের কথা কে শুনবে। অপরাধ না করেও ছেলে ও মেয়ের জামাই আজ জেল হাজতে।
আনোয়ার হোসেন সাধু আরও জানান, এএসআই শামসুজ্জামান তার ছেলে নাদিমকে বেধড়ক পিটিয়ে পড়নের লুঙ্গি পর্যন্ত খুলে ফেলে। তখন তো তার কোমরে কোন কিছু পেলনা। থানায় নিয়ে যাওয়ার পর কিভাবে লুঙ্গির ভেতরে ইয়াবা পেল ?

আনোয়ার হোসেন সাধু জানায়, থানায় নিয়ে এএসআই শামসুজ্জামান আমার ছেলে নাদিমকে বলে, তুই ওসি স্যারকে বলবি তর কাছে ১০ হাজার ৩০০ টাকা নিয়েছি। কিন্তু সে আমার বাসা থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। যা আশে পাশের সবাই অবগত আছে। আমি রবিবার এসপি স্যারের কাছে যাবো তার কাছে বলবো এই অন্যায়ের কথা।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, ৪০ পিছের একটি মাদক মামলা আমি পেয়েছি। শুক্রবার রাতে এএসআই শামসুজ্জামান দিয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে টাকা পয়সা নেয়ার বিষয় আমি অবগত না।

এ বিষয়ে এএসআই শামসুজ্জামান বলেন, নাদিম ওসি স্যারের সামনে বলেছে তারা মাদক ব্যবসা করে। আর ওর বোন জামাই চট্টগ্রাম থেকে মাদক এনে দেয়। টাকা নেয়ার অভিযোগটি মিথ্যা।

সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তকারকৃত নাদিম আমার কাছে মাদক ব্যবসার কথা স্বীকার করেছে।