অভিশপ্ত আমি

– আরিফ বিদেল

আমি হারিয়ে ফেলেছি আমার পরিচয়
বিস্মৃত আমি
আমার চেতনার গড়া বাঁধ
আজকে আমার নেই কোন সাধ
এ কোন আমি!
আমি কি আমি?

আজকে নেই আমার দু’চোখে দ্যুতি
লজ্জাহীন অনুভূতির এ কোন বিচ্যুতি!
আমার কর্ণ কূহরে জমেছে পাথর
শুনতে পাইনা অত্যাচারিতের বুকফাটা হাহাকার
নির্যাতিতের মিছিলে দেখি লাশের পর লাশ
তারপরও অনুভূতিহীন
এ কোন আমি
আমি কি আমি?

আমি কি আদম হাওয়ার ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার
আমি কি সৃষ্টির সেরা মানব, জগতের অহংকার
আমার হাতেই কি ছিল একদিন আলীর জুলফিকার
আমার রক্তেই কি ঝলসে উঠেছিল কারবালা পারাব…

আমার কর্ণ কুহরে জমেছে পাথর
আমি শুনিনা তাদের কান্না
শোকে দুঃখে যারা হয়েছে কাঁতর
কেঁদে কেঁদে শুকিয়েছে যাদের অস্রুসাগর
আমি হারিয়েছি আমার অনুভূতি
হারিয়েছি আমার দু’চোখের দ্যুতি।

আমি এ জগতের অভিশাপ
আমি করেছি মহাপাপ
কে জানে! এ পাপের ফসল কোথায় নিয়ে যায়
ভাবিতে পারিনা কিছু – বেলা বয়ে যায়
দেখিতে দেখিতে অস্ত যায়
আমার রক্তিম সূর্য
আসে না ভেসে হাস্নাহেনার সুবাস
আসেনা কোকিলের কুহুতান
মৃদুমন্দ বাতাসে দোলে না প্রিয়তমার শাড়ির আচল
চপল ধান ক্ষেতে দোল খায় না প্রিয়তমার এলোকেশ।

চারিদিকে দেখি বিধবা আর এতিমের মিছিল
নির্যাতিতের দীর্ঘশ্বাসে উপচে পড়ছে কারাগার
অলিতে গলিতে মারছে চাবুক জালিম ও লুটেরা
ক্ষমতার মসনদে মদমত্ত, বঞ্চিত হাজারো শিশুরা

আমি দেখি না সেই স্বাধীনতার সূর্য
যার পরশে নেচে উঠতো দামাল ছেলেরা
গর্বে ভড়ে যেত বাংলা মায়ের কোল
এমন কি! আমি শুনিনা বঙ্গোপোসাগরের গর্জন
আমি শুনিনা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হুঙ্কার
হারিয়েছে আমার রক্তপলাশ তাঁর অহংকার।

কে আছো ওগো! তুমি বসে ওপারে
এসো! নবচেতনায় জাগাও আমারে
শক্তি দাও আমার এ মাটির দেহরে
ওগো কে আছো তুমি বসে ওপারে।

দাও আমার হাতে অরফিয়াসের বাশরি
দাও সালাহদিনের যুদ্ধ – কাফেলা, তরবারি
দাও খায়বার বিজয়ী জুলফিকার
দাও হোসেনের শ্বেত দুলদুল – সওয়ার

আমি ফিরে পেতে চাই আমার হারানো চেতনা
আমি হতে চাই ধ্বংস বেদনা
ভেঙে দিতে চাই জালিমের কালো হাত
আমার চিতায় জ্বলবে শোষকের লুন্ঠিত সম্পদ
আমি যম, মহাকাল
মহা জলধির বুকে নির্বাসিত হবে তাদের কংকাল।