সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি এবং থাকবো- মেয়র আইভী

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ  নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন,সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। আমি আদর্শগত রাজনীতি করতে চাই। আদর্শের মাঝখানে থেকেই লড়াই করতে চাই। যারা দলের ভেতর থেকে দলের বিরুদ্ধে কথা বলে, অন্যায় করে, অপকর্ম করে, খুন করে এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করে দলের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে যারা লালিত হয় তাদের বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।

শুক্রবার (১২ অক্টোবর) বিকালে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির বর্ষিয়ান নেতা কমরেড শফিউদ্দিন আহমেদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আলী আহাম্মদ চুনকা পৌর পাঠাগার ও নগর মিলনায়তনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যান মন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

আইভি বলেন,আমি যেন মানুষের কল্যানে রাজনীতি করতে পারি সেটাই আমার জন্য বড় কিছু। আমি নারায়ণগঞ্জবাসীকে নিয়েই কাজ করতে চাই। সরকার আমাকে অনেকভাবে সহযোগিতা করছে। সেগুলো আপনাদের মাধ্যমেই আমি এই নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে দিতে চাই।

বর্ষিয়ান নেতা কমরেড শফিউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে মেয়র বলেন, শফি কাকার রাজনৈতিক দর্শন আমার রাজনৈতিক দল থেকে কিছুটা হলেও পার্থক্য রয়েছে। ২০০৩ এ আমি যখন নির্বাচন করতে আসলাম তখন পরিবেশ-পরিস্থিতি ছিল অন্যরকম। তখন আমি ভালো করে অনেককে তখন চিনতামও না। তারপরেও সকলের সহযোগিতার কারণে পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু ২০১১ এর নির্বাচন যেটা আমার জন্য স্মরনীয় এবং আমি মনে করি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্যও স্মরনীয়।

আমাদের বাড়িতে আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে যখন ১৪ দলের মিটিং হয়েছিল তখন শফিউদ্দিন কাকা জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি তোমার দল সমর্থন না করে তাহলে তুমি কি করবা? আমি তখন বললাম, দল আমাকে প্রতীক না দিলেও আপনারা আমাকে সহযোগিতা করলে আমি নির্বাচন করবো। আমি একটা ভোট পেলেও নির্বাচন করবো। সেই সময় আমাকে সাহসী স্পিরিটটা জাগিয়েছিলেন শফি কাকা। ওই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শফি কাকা আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহার সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, কামরুল আহসান, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, খেলাঘর আসরের সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, কমিউনিস্ট পার্টির জেলার সভাপতি হাফিজুর ইসলাম, মহিলা পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী, নাগরিক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) জেলার সভাপতি আওলাদ হোসেন প্রমুখ।