নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে হবে- ত্রাণ মন্ত্রী

মো. দ্বীন ইসলাম, মতলব উত্তর (চাঁদপুর) : আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় ছিনিয়ে আনতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাÐ জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের আহবান জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি বলেছেন, নৌকার যেন বিজয় হয়। স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদী, খুনি ও খুনিদের প্রশ্রয়দাতা, দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী এবং অর্থ পাচারকারীরা যেন আর কোনোদিন বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে না পারে। সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। জনগণের মধ্যে সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরবেন, নৌকায় ভোট দিয়ে এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা বলবেন।

শুক্রবার মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুরে নিজ বাসভবন আলী ভিলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
দলকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল নেতাদের উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী মায়া চৌধুরী বলেছেন, দলের মধ্যে কোনো রকম কোন্দল যেন না থাকে। আওয়ামীলীগকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে, জনসমর্থন বাড়াতে হবে। আসুন প্রতিজ্ঞা করি, বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবোই। দুই মতলবের সমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করতে আগামী নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করার কোন বিকল্প নেই।
আগামী নির্বাচনে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, নৌকা ভাষার অধিকার ও স্বাধীনতা দিয়েছে। নৌকা দারিদ্র্য থেকে মুক্তি এনে দিচ্ছে। নুহ নবীর নৌকা মানুষকে প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা করেছে। আগামী দিনে এই নৌকাই মানুষের মুক্তি এনে দেবে। কাজেই নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে বলতে হবে। কারণ মানুষ সুখ পেলে দুঃখের কথা ভুলে যায়। মানুষকে বলতে হবে, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তারা যেন নৌকা মার্কায় ভোট দেন।
দেশের মানুষের কল্যাণ ও ভাগ্য পরিবর্তনে নিজের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। জাতির পিতা এদেশ স্বাধীন করে গেছেন। এদেশ কখনও পিছিয়ে থাকতে পারে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেই গতিটা যেন অব্যাহত থাকে। এটাই মানুষকে বোঝাতে হবে।
দলের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতসহ ভিন্ন আদর্শের ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ ঘটানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে দলীয় আদর্শে আকৃষ্ট করার জন্য তৃণমূল নেতাদের পরামর্শ দেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেন, যারা মানুষ হত্যা ও অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, নিজেদের গ্রুপ ভারি করতে তাদের নিয়ে টানাটানি না করে নতুন কর্মী সৃষ্টি করতে হবে।

দুর্ণীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি বেকসুর খালাস পেয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুর-২ এ বৃহস্পতিবার রাতে আসলে শ্রীরায়েরচর ব্রীজে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

শুক্রবার সকালে মোহনপুরস্থ নিজ বাস ভবনে নেতা-কর্মীরা ফুলে ফুলে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ত্রাণমন্ত্রীর সহধর্মিনী ও মতলব উত্তর-দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের উপদেষ্টা পারভীন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপু, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস, ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব রফিকুল আলম জজ, মতলব উত্তর-দক্ষিণ মহিলা আওয়ামী মহিলালীগের উপদেষ্টা সুবর্ণা চৌধুরী বীনা, উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম লস্কর, শহীদ উল্যাহ মাস্টার, যুগ্ম সম্পাদক আইয়ুব আলী গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার, গাজী ইলিয়াছুর রহমান, শাহজাহান প্রধান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান ঢালী, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী শরীফ, সাংগঠনিক সম্পাদক সলিমউল্যাহ বারী চৌধুরী সোহেল, আওয়ামীলীগের নেতা বোরহার উদ্দিন মিয়া, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আবু সালেহ মো. খুরশিদ আলম, সাধারণ সম্পাদক জিএম ফারুক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মোসাদ্দেক হাওলাদার মামুন, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক তামজিদ সরকার রিয়াদ।
এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও মোহনপুর ইউপির স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সামছুল হক চৌধুরী বাবুল, ফরাজীকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দানেশ, ষাটনল ইউপি চেয়ারম্যান একেএম শরীফ উল্লাহ সরকার, দূর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আবুল খায়ের, এখলাছপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোসাদ্দেক হোসেন মুরাদ, জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আলী আক্কাছ বাদল, কলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান সোবহান সরকার সুভা, ছেংগারচর পৌরসভার প্যানেল মেয়র হাজী রুহুল আমিন মোল্লা, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির খান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল মাহমুদ টিটু মোল্লা, মোহনপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিয়া, মোহনপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শাহীন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী উল্লাহ অলি’সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।