লন্ডন থেকে এক সাংসদ খুনের চুক্তি পেয়েছিল ডা. জাহিদুল আলম

আজকের নারায়নগঞ্জঃ  ছাত্র জীবন থেকেই বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের শখ ছিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ২০০২ সালে এমবিবিএস পাস করা ডা. জাহিদুল আলমের। নতুন অস্ত্র সংগ্রহের ঝোঁক থেকেই অস্ত্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে এ ডাক্তার। হাতের নিশানা নিখুঁত থাকায় কনট্রাক্ট কিলার হয়ে উঠে জাহিদুল। বেশকিছু কিলিংয়ে সে অংশ নিয়েছিল বলে জানায় পুলিশ।

সম্প্রতি রাজধানীর যাত্রাবাড়ি ও গাবতলী এলাকা থেকে ডা. জাহিদুল আলম ও তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

তাদের কাছ থেকে ১৫ টি বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১ হাজার ৬২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম।

মনিরুল ইসলাম বলেন: ‘গত ১৫ মে যাত্রাবাড়ি থেকে দুইটি পিস্তলসহ ডা. জাহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই দফা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সবকিছু তার স্ত্রী জানে বলে জানায় সে। এরপর গত ৩ জুন তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে গাবতলী থেকে ১ টি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর তাদেরকে মুখমুখি রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে।’

‘তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ৭ জুন ভোরে তাদের ময়মনসিংহের বাঘমারা এলাকার ফ্ল্যাট থেকে আরো ১২ টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে .২২ বোরের রাইফেল ৩টি, ৩০৩ রাইফেল ১টি, .৩২ বোর রিভালবার ৪টি, ২২ রিভালবার ১টি, ৭.৬৫ পিস্তল ৫টি, .২৫ পিস্তল ১ টি এবং ১৬২২ রাউন্ড গুলি।’

তিনি বলেন: ‘ডা. জাহিদুল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ২০০২ সালে এমবিবিএস পাস করলেও কোন স্থায়ী চাকরিতে যোগদান করেননি। এর পর ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ডিপ্লোমা করেন। মাঝখানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন ক্লিনিকে অল্প কিছু দিন করে চাকরি করেন।’

‘ডা. জাহিদুলের ছাত্র জীবন থেকেই বিভিন্ন অস্ত্র সংগ্রহের সখ ছিলো। তারপর যেহেতু সে স্থায়ী কোন চাকরি করত না, সেহেতু তার জীবন ধারন এবং নতুন অস্ত্র সংগ্রহের ঝোঁক থেকেই অস্ত্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে সে। তার হাতের নিশানা খুবই নিখুঁত ছিল এবং যেহেতু কনট্রাক্ট কিলিংয়ে প্রচুর অর্থ পাওয়া যায়, সেই সুবাদে পর্যায়ক্রমে কন্ট্রাক্ট কিলার হয়ে উঠে এবং বেশকছু কিলিংয়ে সে অংশ নিয়েছিল ‘

মনিরুল ইসলাম বলেন: ‘সম্প্রতি সিলেট অঞ্চলের এক সাংসদকে খুনের জন্য লন্ডনের এক ব্যক্তির সঙ্গে ডা. জাহিদুলের চুক্তি হয়। সে রিমান্ডে রয়েছে, কোন সাংসদকে খুন করতে লন্ডনের কোন ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল তা জানার চেষ্টা চলছে।

‘তার সবগুলো অস্ত্রই বৈধ ডিলারের কাছ থেকে সংগ্রহ করা। কিছু অস্ত্র কেনার পর সে নিজে মোডিফাই করেছে। যেসব ডিলারের কাছ থেকে অস্ত্রগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল তাদের নাম আমাদের কাছে এসেছে। যাচাই-বাছাই শেষে সেসব ডিলারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন: ‘কতটা কিলিংয়ে অংশ নিয়েছিল এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ধারনা করা হচ্ছে ২০০৩-০৪ সাল থেকে সে এই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। অস্ত্র ব্যবসার সুবাদে বিভিন্ন এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গেও তার সখ্যতা ছিলো।’

যে অস্ত্র বিক্রি করে তার কাছে সকল অপরাধীই সমান। কোন জঙ্গি গোষ্ঠিকে ডা. জাহিদুল অস্ত্র সহায়তা দিয়েছে কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

সূত্র ও তথ্যঃ চ্যানেল আই অনলাইন