পাগলায় ট্রাক চালক ইউনিয়ন অফিসে হামলা, ৩২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আ্ইন-আদালত(আজকের নারায়নগঞ্জ):  নারায়ণগঞ্জর ফতুল্লার পাগলা এলাকায় ৮ অক্টোবর সোমবার সকালে আন্দোলনকারীদের মিছিল থেকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে কয়েকটি যানবাহন ও ট্রাক শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত তিনশ ব্যক্তিকে আসামী করে ওই রাতেই ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জজ মিয়া নামের স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক নেতা বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলায় যে ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলো, তাজুল ইসলাম ওরফে বটগাছ তাজুল, মফিজুল ইসলাম মফিজ, মিলন ওরফে জামাই মিলন, নাসির, ফরিদ, কবির, আমির, ইবরাহিম, শফি ওরফে জামাই শফি, রুহুল ওরফে কদু রুহুল, কালাম, হানিফ, চান্দি, শহীদ, মনির ওরফে কানা মনির, রিয়াজ, মনির, গালকাটা ফিরোজ, হিরন, রাজ্জাক, চান্দু, রুহুল ওরফে বরিশাইল্যা রুহুল।
মামলায় পাগলা আন্ত:জেলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন কার্যালয়, সেবা ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, ৪টি মটর পার্টসের দোকান ভাঙচুর ও ৬ লাখ টাকা ক্ষতিসাধনের অভিযোগ করা হয়। এছাড়া পাগলা আন্ত:জেলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন কার্যালয়ের আলমারি ভেঙ্গে নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা লুটে নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঞ্জুর কাদের জানান, ওই ঘটনায় কারা কারা জড়িত ছিল সে ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করছে। ধর্মঘটের আড়ালে এক শ্রেণীর লোক বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা তাদের পর্যযেক্ষণ করছি। আন্দোলনের নামে কেউ বিশৃংখলা সৃষ্টি করলে বা জনগণের জানমালের ক্ষতি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য জানা গেছে, সদ্য পাস হওয়া  সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবীতে ৭ অক্টোবর থেকে  ধর্মঘট শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জেও এটা চলমান। ৮ অক্টোবর সোমবারও ছিল আন্দোলন। তবে পাগলা ও ফতুল্লা এলাকাতে কাউসার আহমেদ পলাশের নেতৃত্বাধীন পক্ষ সকালে শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট পালন করতে থাকলেও সকালে শ্যামপুর,কদমতলীসহ আশপাশ এলাকার একটি চক্র শ্রমিকবেশে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে মিছিল নিয়ে সড়ক প্রদক্ষিন করে পাগলাস্থ ট্রাক চালক ইউনিয়ন কার্যালয়ে আচমকা ভাঙচুর চালায়।

এদিকে হামলা ভাঙচুরের সংবাদ পেয়ে ট্রাক চালক ইউনিয়ন পাগলা শাখার সভাপতি ও শ্রমিক নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশের নেতৃত্বে আলীগঞ্জ হতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে পাগলা হয়ে তালতলা পর্যন্ত যায়। মিছিল থেকে নানা ধরনের শ্লোগান দিয়ে হামলাকারীদের হুঙ্কার দেয়। পরে তালতলা হতে মিছিল নিয়ে পাগলা বাজারে এসে শেষ করে। এসময় একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

শ্রমিক নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশ বলেন,পরিবহন শ্রমিকদের দাবি আদায়ে আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আমাদের দাবি আদায় করবো। আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়েছি তারা ট্রাক বন্ধ রাখলে ঢাকায় চাল ডাল আনা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন সংকট সৃষ্টি হবে। দাবি আদায়ে গাড়ি ভাঙচুর করতে হবে এমন কোন কথা নয়। সোমবার দুপুরে ট্রাক চালক ইউনিয়ন পাগলা শাখার অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেছে তারা প্রকৃত অর্থে শ্রমিক নয়। কিছু নামধারী শ্রমিক ও শ্যামপুর হতে বহিরাগত লোকজন এসে আমাদের অফিস ভাঙচুর করেছে।
তিনি আরো বলেন, যারা ট্রাক চালক ইউনিয়ন অফিস ভাঙচুর করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন