টস ভাগ্যে নিজ ট্রফি হারালেও স্বপ্না খুশী দেশের শিরোপায়

ক্রীড়া ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ): সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবলে শিরোপা জয় করেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৭টি করে গোল করে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন বাংলাদেশের সিরাত জাহান স্বপ্না ও নেপালের রেখা পাওদেল। তবে দুজনই সেরা গোলদাতা হওয়ায় টস ভাগ্যে ট্রফি পেয়েছেন রেখা পাওদেল। স্বপ্নাকে তাই এক অর্থে হতাশায় পুড়তে হয়েছে। তবে রংপুরের মেয়ে স্বপ্না সাংবাদিকদের বলেছেন, মোটেও এজন্য খারাপ লাগছে না তার। শিরোপা জিততে পেরেই বেশি খুশি এই ফরোয়ার্ড।

বাংলাদেশ এই আসরে শুধু চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নয়। আসরের মোস্ট ভ্যালুয়েবল ট্রফি এসেছে বাংলাদেশের ঘরে। যেটি পেয়েছেন ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন। ফেয়ার প্লে ট্রফিও এসেছে বাংলাদেশের ঘরেই। টস ভাগ্যে সেরা গোলদাতার ট্রফি না এলেও বাংলাদেশ সেখানে সেরার তালিকাতেই থাকছে। আর সেটি সিরাত জাহান স্বপ্নার কারণে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রীতিমতো গোল উৎসব করে জিতে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের জালে গুণেগুণে ১৭ গোল দেয় দলটি। স্বপ্না একাই করেন ৬ গোল। যদিও তথ্য বিভ্রাটে একটা বিভ্রান্তি থেকে গেছে স্বপ্নার সেদিনের গোল নিয়ে। মূলত সানজিদার করা একটি গোলও যোগ হয়েছিল তার নামে।

তবে সর্বোচ্চা গোলদাতার পুরস্কারের পর সেই বিভ্রান্তি দূর হয়েছে। স্বপ্না পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬ গোল করার পর নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে করেন ১ গোল। মোট ৭ গোল তার। ওদিকে নেপালের রেখা পাওদেল পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২-০ গোলে জেতা ম্যাচে করেন ৭ গোল। টুর্নামেন্ট শেষে এই দুজনই তাই সেরা গোলতাদার স্বীকৃতি পেলেন।

কিন্তু সেরা গোলদাতার ট্রফি না পাওয়ায় স্বপ্নার একটু খারাপ লাগা কি কাজ করার কথা না?  স্বপ্না বলেন, ‘দুজনেরই সমান গোল হওয়ায় টস করেছে। তখন ওর (নেপালের খেলোয়াড়) ওঠেছে। আসলে আমার এ নিয়ে কোনো আফসোস নেই। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। এরচেয়ে বড় কিছু তো আর হতে পারে না।’

অবশ্য ইনজুরির কারণে ভুটানের বিপক্ষে সেমি ফাইনাল ম্যাচ খেলতে পারেনি স্বপ্না। যে ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পায় ৪-০ গোলে। ওই ম্যাচ খেলতে পারলে হয়তো এককভাবেই সেরা গোলদাতা হতে পারতেন এই কিশোরী।

বড় আসরে স্বপ্নার গোল উৎসব অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে মেয়েদের সিনিয়র সাফে ৫ গোল করে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোল স্কোরার হয়েছিলেন স্বপ্না। বাংলাদেশের সাবিনা খাতুন ৬ গোল করে হয়েছিলেন দ্বিতীয়। ১২ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন নেপালের সাবিত্রা।

সিনিয়র সাফের ধারাবাহিতা জুনিয়র সাফেও রেখেছেন স্বপ্না। তবে দুটির মধ্যে তুলনায় সিনিয়র সাফেরটিকেই এগিয়ে রাখতে চান স্বপ্না, ‘আমি সিনিয়র সাফেরটিকেই এগিয়ে রাখবো। কারণ সেটা আরো বড় আসর। তবে এই আসরের অর্জনও আমার মনে গেঁথে থাকবে।’

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ মোট গোল করেছে ২৪টি। স্বপ্নার ৭ গোল ছাড়াও ৪ টি গোল করেছেন মার্জিয়া। সেরা গোলদাতার তালিকায় তিনি দ্বিতীয়। ৩টি গোল করেছেন কৃষ্ণা রানী সরকার। ২টি করে গোল করেন সানজিদা আক্তার, শিউলি আজিম ও মিসরাত জাহান মৌসুমী। ১টি করে গোল করেছেন আঁখি খাতুন, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার ও মাসুরা পারভীন। নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে একমাত্র গোলটি আসে মাসুরার পা থেকে।

তথ্য ও ছবিঃ পরিবর্তন ডট কম