মশা

– দিলীপ গুহঠাকুরতা

জগত জুড়ে লক্ষ প্রাণী, মানুষ যে তার সেরা ,
সন্ধ্যে হলে সেই মানুষের চাই যে ঘরে ফেরা ।

সারাদিনের ব্যস্ততা আর কাজের ছোটাছুটি,
বাসায় ফিরে মনটা যে চায় আরাম মোটামুটি ।

ফ্রেস-টেশ হয়ে সারা শরীর সোফার উপর এলি-
সকাল বেলার বাসী কাগজ চোখ সমুখে মেলি।

একটি হাতে পেপার ধরি, অন্য হাতে চায়ের কাপ,
সাফ গেমসে কিশোরিরা ফেললো মনে আশার ছাপ।

আসছে ম্যাচে ক্রিকেট ব্যাটে এমনি করে ঝড় উঠুক –
সুখ স্বপ্নে বিভোর হয়ে চায়ের কাপে দেই চুমুক।

এমন সময় একটা মশা বাম কনুইয়ে দেয় কামড়,
‘দেখাচ্ছিরে হতচ্ছাড়া – মরণ যে তোর আজ পামর’।

দিলাম মেরে জোরসে চাঁটি – বসছে মশা বাম হাত যথা,
ভুলে গেলাম ডান হাতে মোর গরম চায়ের কাপের কথা ।

বোন চায়নার চায়ের কাপটি চারখান হয়ে পড়লো দূরে,
দুষ্ট মশা রক্ত খেয়ে ভনভনিয়ে চললো উড়ে ।

এ্যারোসল আর মশার কয়েল ক্ষণিক তরে তাড়ায় মশা,
ওসব বেশি ব্যবহারে মানুষের হয় মরণ দশা ।

দিনের বেলা যেমন তেমন, সন্ধ্যা থেকে মশার মেলা,
কাজ-কর্মে, লেখা-পড়ায় হচ্ছে ব্যাঘাত – কী ঝামেলা !

কতই না জীব লুপ্ত হলো যুগে যুগে ধরা থেকে,
উল্টো দেখি নিত্য নতুন মশা মোদের ধরছে ছেঁকে ।

জানিনা এই জীবন কালে মশার থেকে বাঁচব কবে ।
লেডিস এডিস কামড়ে দিলে ডেঙ্গু ফিভার হবেই হবে ।

চড় থাপরে মারবো কতো – উড়ছে মশা দলে দলে।
ক্ষান্ত দিলাম কাব্যচর্চা, পিত্তি আমার যাচ্ছে জ্বলে।