আশ্বাসেই দায়িত্ব শেষ এমপি খোকার! মৃত্যুর মুখে স্কুল ছাত্রী সাদিয়া

সোনারগাঁ(আজকের নারায়নগঞ্জ):  নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা কাঁচপুরে বেপরোয়া বাসের চাপায় আহত স্কুল ছাত্রী সাদিয়া আক্তারের অবস্থা সংকটে। তার ডান হাত ভেঙে গেছে। পরপর দুইটি অপারেশন হয়েছে। শরীরে বিভিন্ন অংশে রয়েছে ক্ষত চিহ্ন। এসবের ব্যাথায় এখনও হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে কান্না করেন সাদিয়া। তার কান্নায় স্বজনদেরও অশ্রুঝরে।

৬ অক্টোবর শনিবার সকালে সাদিয়া আক্তারের চাচা কাজী মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান এসব তথ্য দিয়ে গনমাধ্যমকে  জানান, বাসের ধাক্কায় তার ডান হাতের কাঁধের দিক থেকে ভেঙে যায়। পেটের লিভার ফেটে গিয়েছে। তাছাড়া দুই পায়েও আঘাত পেয়েছে। এগুলো ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতের চিহ্ন আছে। যার জন্য ব্যথায় কান্না করে।

তিনি বলেন, এখনও আশঙ্কামুক্ত না সাদিয়া। সবাই সাদিয়ার জন্য দোয়া করবেন। যাতে সে সুস্থ্য হয়ে দ্রুত আমাদের মধ্যে ফিরে আসে।

এদিকে বাস চাপা দেওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত বাসের চালক ও হেলপারকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের দাবি জানালেও এখনও পর্যন্ত কোন ট্রাফিক পুলিশ কিংবা সড়কের নিরাপত্তায় কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এঘটনায় শনিবার দুপুরে সাদিয়া আক্তারে বাবা মিন্টু কাজী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এতে তিনি উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার মহাসড়কের উত্তর পাশ থেকে দক্ষিন পাশে যাওয়ার সময় কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মদনপুরমুখী একটি বাসের অজ্ঞাতনামা চালক দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে সাদিয়াকে সজোরে ধাক্কা মারলে ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রথমে কাঁচপুরের মডার্ন হাসপাতালে পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেই থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায়  সাদিয়া ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা পরিস্থিত শান্ত করতে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে আহত শিক্ষার্থীর সহযোগিতার কথা বললেও এখনও পর্যন্ত আহত সাদিয়ার কোন খোঁজ খবর নেয়নি।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, বাসে ধাক্কা দিয়ে শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে চালক ও হেলপারকে আসামী করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বাসটি আটক আছে। এছাড়াও হেলপার ও চালককে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে। তাছাড়া মামলাটি পরিচালনা করবে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ।

৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় কাঁচপুরের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের ওমর আলী স্কুলের সামনে ওই ঘটনা ঘটে। আহত স্কুল ছাত্রী কাঁচপুর সোনাপুর এলাকার মিন্টু কাজীর মেয়ে সাদিয়া আক্তার (১৫)। সে ওমর আলী স্কুলের নবম শ্রেনির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী।