একগুচ্ছ কবিতা ।। গোলাম কবীর

 

১। শিরোনামহীন -৬১

ঘুম সেই কবে থেকে যে আড়ি
নিল আর মনে ও পড়ে না তা।
চোখ তো নয় যেন রক্তজবা,
রাত গুলো হাঁ করা বিরান সমাধি ভুমি,
দিন গুলো চৈত্রের শীর্ন নদীর মত,আর আমি?
তোমারই বিরহে এখন মৃত আগ্নেয়গিরি
হয়ে বসে আছি আবার কখনো বা
বাঘের তাড়ায় ভীত হরিণের মত
ক্লান্ত দৃষ্টি মেলে তাকাই চৌদিকে
এমন ভাবে যেন জীবনটা হাতের মুঠোয়।
চারিদিকে জীবনের এত আয়োজন,
অথচ! আমার ভাললাগে না ওসব কিছু।
আমি শুধু চাই তোমাকেই বারে বার,
তোমাকে না পাবার অনন্ত তৃষ্ণায় কাটে
অসহ্য রাত্রিদিন বেলা অবেলা কালবেলা।

২। শিরোনামহীন – ৬০

তোমার সাথে আমার প্রথম বিচ্ছেদের
সেই দিনের কান্নায় আমাকে সান্ত্বনা
দিয়েছিলে আজান ও ইকামতের বাণীতে।
তোমার আমার মাঝে যে দুরত্ব,
জানি তা অতিক্রম করতে মৃত্যুই হলো বৈতরণী।
পৃথিবীর ভালবাসার কফিনে একটা একটা করে
শেষ পেরেকটা ঠুকে না দেয়া পর্যন্ত
তোমাকে পাওয়া যাবে না,
এটাই যদি তোমাকে ভালবাসার একমাত্র প্রমাণ হয়,
তবে আমাকে এখানে পাঠালে কেন?
এ কেমন খেলা তোমার?
তবে তাই হোক!
তোমাকে ভালবাসার আনন্দে
ফিরিয়ে নাও আমার চোখ
পৃথিবীর সব আনন্দ হতে।

৩। শিরোনামহীন – ৫৯

অতঃপর একদিন চলে এলাম তোমায় ফেলে
মাতৃগর্ভ ফুঁড়ে চিৎকার করতে করতে,
সেই বিচ্ছেদের দিনটার কোন স্মৃতি ও
এখন আর মনে পড়ে না, অথচ পৃথিবীর
কত কিছুই তো এতদিনে বদলে গেছে
যেমন বদলে গেছি আমি ও।
কিন্তু আমাদের সম্পর্ক ঠিক তেমনিই
রয়ে গেছে, তোমাকে না দেখার বিরহে
বরং আরো প্রগাঢ় হলো মনে হয়।
এখন তোমার কথা মনে হলেই
দু’চোখে নামে শ্রাবণ ঢল, কখনো বা গলা, ঠোঁট
শুকিয়ে আসে, অনিদ্রায় কাটে তিমিরের
সারাবেলা, তোমার কাছে যাবার,
তোমাকে পাবার অনন্ত তৃষ্ণা
জেগে থাকে হৃদয়ে, ভালবাসা আমার।