দূর্গোৎসব  উদযাপনে ১০ নির্দেশনা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক:  দূর্গোৎসব  উদযাপনে ১০ নির্দেশনা জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: আনিসুর রহমান বলেছেন, পূজা উপলক্ষে যেই কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির ঘটনা ঘটাতে চাইবে, তার বিন্দু পরিমাণ ছাড় নেই। ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির কোনো ছাড় নেই। এ ধরনের কাজে যেই লিপ্ত থাকবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথাগুলো বলে।

এসপি আরও বলেন, নির্বিঘ্নে  শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে পুলিশ সর্বত্র সজাগ রয়েছে। পুলিশিং হবে এগ্রিসিভ পুলিশিং। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। মনে রাখতে হবে, মনের বাঘে আপনাকে খেলে আপনি মাইন্যুরেটি। আর যদি মনের বাঘ কে সজাগ করতে পারেন তাহলে আপনি বাপের বেটা।

এসময় পুলিশ সুপার দুর্গোৎসব উদযাপনে পূজা উদযাপন নেতৃবৃন্দদের ১০টি নির্দেশনা দেন।

যেগুলো হলো- প্রতিমা নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ না করে নির্ধারিত রুটে বিসর্জনের স্থানে পৌছানো, সূর্যাস্তের পূর্বে প্রতিমা বিসর্জনের স্থানে পৌছানো এবং যথাসম্ভব সন্ধ্যার আগে বিসর্জন সম্পন্ন করা, প্রতিমা বিসর্জনের স্থানে মাইক, পর্যাপ্ত আলো ও বিকল্প আলোর ব্যবস্থা রাখা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও ভিডিওর ব্যবস্থা করা, বিশৃংখলা এড়াতে সিরিয়ালের ব্যবস্থা রাখা, প্রানহানী রোধকল্পে যাতে কোন ধরণের দূর্ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে সচেতন থাকা, আগমন ও বর্হিগমনের জন্য পৃথক পৃথক ব্যবস্থা করা, বিসর্জন স্থানের পাশে বেপরোয়া গতিতে যাতে যানবাহন না চালানো হয় সেই বিষয়ে সর্তক থাকা, প্রতিমা বিসর্জন ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যার মধ্যেই সম্পন্ন করা ও যে সকল পূজা মন্ডপের প্রতিমা বিলম্বে বিসর্জন দিবে কিংবা দিবে না সে সকল পূজামন্ডপের প্রতিমা নিজের নিরাপত্তায় রাখা।

তখন প্রতিমা বিসর্জন সম্পর্কে পূজা উদযাপন কমিটির নেতাকর্মীরা কথা বলতে চাইলে এসপি এ বিষয়টি তাদের এখতিয়ারে নাই জানিয়ে এব্যাপারে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দেন। তবে যদি পুলিশকে সারা রাত্র থাকতে হয় তাহলে আমরা সারা রাত্র থাকতে প্রস্তুত আছি।

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখণ সরকার শিপন বলেন, নারায়ণগঞ্জ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। এ বছর দুই শতাধিক স্থানে পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ সকল পূজা মন্ডপে পর্যাপ্ত পরিমাণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন করার আহ্বান জানান। শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে পূজা মন্ডপে রাতের বেলা দর্শনার্থীরা যাতে করে তারা সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা উদযাপন করতে পারে তার জন্য শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের টহল ও নজরদারির রাখার অনুরোধ করেন তিনি। শহরের রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজার সময়ে পূজা মন্ডপে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। এ সময়ে শহরের এক পাশের রাস্তা বন্ধ রেখে অন্য পাশের রাস্তার মাধ্যমে যান চলাচলের অনুরোধ জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ মনিরুল ইসলাম, (অপরাধ) আব্দুল্লাহ আল মামুন, (ডিএসবি) মোঃ ফারুক হোসেন, (ট্রাফিক) আব্দুর রশিদ, (ক’সার্কেল) মোঃ মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ্ মঞ্জুর কাদের, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আঃ সাত্তার, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কমান্ডার গোপিনাথ দাস, কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য বাসুদেব চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক কমলেশ সাহা, মহানগর পূজা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি অরুন কুমার দাস, যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক উত্তম সাহা, কোষাধ্যক্ষ সুশীল দাস, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাশ, মহানগর কমিটির সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল, সাধারণ সম্পাদক নিমাই দে, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত মন্ডল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটি সভাপতি শিশির ঘোষ অমর, বন্দর কমিটির সভাপতি শংকর দাস, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন দাস, সোনারগাঁও কমিটির সভাপতি লোকনাথ দত্ত, আড়াইহাজার কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারাধন চন্দ্র দে প্রমুখ।