র‌্যাবের এএসপি পরিচয়ে নয় বিয়ে.. অত:পর শ্বশুরবাড়ীতে!

সিদ্ধিরগঞ্জ(আজকের নারায়নগঞ্জ): তিনি পুলিশের কর্মকর্তা, তিনি ডিবির অফিসার এরপর র‌্যাব কর্মকর্তা। তার ফটো এ্যালবামে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী তাকে সম্মানসূচক ব্যাজ পড়িয়ে দিচ্ছেন। মো: শাহীন আলম ওরফে তারেক ওরফে লিটন ওরফে এএসপি সজিব। বয়স ২৯। এ পর্যন্ত বিয়ের পিড়িতেও বসেছেন নয়বার।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির কমিশনার আসাদুজ্জামানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথেও ছবিতে আছেন। পুলিশ কর্মকর্তার পোশাকে এবং র‌্যাব-১১ এর ওয়ারেন্ট অফিসারের পোশাকেও দেখা যায়। পুলিশের পিএসআই হিসেবে কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে এখন তিনি র‌্যাবের এএসপি।

 কিন্তু গুনধর ওই র‌্যাব কর্মকর্তা র‌্যাব-১১ এর ভুয়া এএসপি। এটা গোপনে জানতে পেরেই র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

র‌্যাব-১১ এর চৌকস কর্মকর্তা সিনিয়র এএসপি মো: আলেপ উদ্দিন. পিপিএম ও এএসপি শাহ মো: মশিউর রহমান,পিপিএম এর নেতৃত্বে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, তার নিকট থেকে একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড, বিপুল পরিমান পুলিশের ভিজিটিং কার্ড, পুলিশ ও র‌্যাবের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি, এএসপি সজিব নাম সম্বলিত পরিচয়দানকারী দাওয়াত কার্ড এবং ৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। প্রতারক সজিব নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার এখলাসপুর এলাকার হাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে।

র‌্যাব আরো জানায়, সজিব মূলত একজন পেশাদার প্রতারক চক্রের সদস্য। তার নিজ এলাকায় সে প্রতারক লিটন হিসাবে পরিচিত। সে র‌্যাব-১১ এর এএসপি পরিচয়ে এ পর্যন্ত ৯ টি বিয়ে করেছে বলে জানা যায়। প্রতারক সজিব দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় র‌্যাবের এএসপি হিসাবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ লোকের কাছ থেকে মামলার তদবির, আসামী ছাড়ানোর জন্য উৎকোচ গ্রহন করাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠিত করে আসছিল।
চিটাগাং রোড এলাকায় তাকে এএসপি হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে সকলে কাছে পরিচিত বলে জানা যায়, আর জনগনের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করার জন্য সে বিশেষ কৌশলের আশ্র্রয় নিতো। সে তার মোবাইলে বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার র‌্যাংক ব্যাজ পরিহিত ছবির সাথে তার নিজের ছবি এডিটিং করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ সংগঠিত করত। এমন কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে রাষ্ট্রীয় পদক পরিয়ে দিচ্ছেন সম্বলিত একটি ভুয়া ছবিও তার মোবাইলে পাওয়া যায়।

সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করার জন্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাকে মিটিংরত অবস্থায়, পুলিশের ট্রেনিংরত অবস্থা সম্বলিত ভুয়া ছবিও সে ব্যবহার করে। প্রতারক সজিব শুধু এএসপি পরিচয়ই দিতনা, প্রতারনা করার জন্য মানুষের শ্রেনী বুঝে সে কখনো পুলিশের এসআই, কখনো র‌্যাবের ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয় প্রদান করে আসছিল। র‌্যাব-১১ এর আভিযানিক দল তার কাছে বিপুল পরিমান বিয়ের দাওয়াত কার্ড জব্দ করে এগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় কার্ড গুলো তার নিজের বিয়ের, সেখানেও বর হিসাবে এএসপি সজিবের নাম লিখা। দাওয়াত কার্ডগুলোর উপরে র‌্যাব ও পুলিশের বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ঠিকানা লেখা ছিল।
এসম্পর্কে সজিব জানায়, সে মাত্র ০৭ দিন আগে প্রতারনা করার উদ্দেশ্যে সানারপার এলাকায় তার নবম বিয়ে সম্পন্ন করেছে। নববধুকে এই কার্ডগুলো দেখিয়ে বিশ্বস্ততা অর্জন করায় তার লক্ষ্য ছিল। এছাড়াও ভুয়া এএসপি নারারায়ণগঞ্জ ও তার আশে পাশের এলাকা থেকে বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। গত ০১ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং এলাকায় প্রতারনার উদ্দেশ্যে ৩ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ী ক্রয়ের জন্য এএসপি পরিচয় প্রদান করে ভয়ভীতির প্রদর্শের অভিযোগও পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।