ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক সব ধারা বাতিলের দাবি

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক:   আংশিক পরিবর্তন নয়, বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক সব ধারা বাতিল করে পুরো আইনটিকে ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংসদে পাস হওয়ার পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ নিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা ও পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপনের যে ঘোষণা এসেছে তা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও এর মাধ্যমে সকল অংশীজন তথা সাধারণ নাগরিকের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগসহ যে নিরাপত্তাহীনতাবোধ সৃষ্টি করেছে তার কতটুকু নিরসন হবে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

টিআইবি মনে করে, ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে আইনটিকে যেভাবে একটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানবিরোধী আইনে পরিণত করা হয়েছে, তার কারণে এর সকল নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল করাসহ পুরো আইনটিকে ঢেলে সাজানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের বৈঠক ও মন্ত্রিপরিষদে সম্পাদকদের উদ্বেগের বিষয় উপস্থাপনের ঘোষণা ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ব্যাপক উৎকণ্ঠা ও সুস্পষ্ট পরামর্শ পাশ কাটিয়ে অস্বাভাবিক দ্রুততায় আইনটি সংসদে অনুমোদন দেওয়ার পর আলোচনার মাধ্যমে বিতর্ক নিরসনের ইঙ্গিত আমাদের আরো উদ্বিগ্ন করছে। আইনটিতে এত বেশি সংখ্যক নিবর্তনমূলক, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ধারা রয়েছে যে, কোনো প্রকার আংশিক পরিবর্তন উদ্ভূত নিরাপত্তাহীনতার অবসান ঘটাবে না।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, ‘আইনটির খসড়ার ওপর দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা তাদের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে সুস্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন। আমলে নেওয়ার অঙ্গীকার করা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। এই বাস্তবতায় তড়িঘড়ি করে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা বা দাবি মানা হয়েছে, এমন ধারণা সৃষ্টির প্রচেষ্টা করা হলে তা যেমন হতাশাব্যঞ্জক, তেমনি আত্মঘাতী হবে। সম্পাদক পরিষদ ও গণমাধ্যমের অন্যান্য প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্য অংশীজনদের উদ্বেগের যথাযথ নিরসন সম্ভব হবে কি না, তা প্রশ্নসাপেক্ষ।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এমন বাস্তবতায় আমরা আশা করি, সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণের সাংবিধানিক অধিকার, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আইনটির বিতর্কিত সকল ধারা প্রত্যাহার করে নতুন করে ঢেলে সাজাবার উদ্যোগ নেবেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবশ্যই একটি যুগোপযোগী আইনের প্রয়োজন আছে এবং কোনোভাবেই আমরা দেশে একটি কার্যকর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের বিরোধিতা করছি না। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার হরণের সুযোগ সৃষ্টির প্রয়াসকে আত্মঘাতী ও অগণতান্ত্রিক বিবেচনা করছি।’