স্কুলছাত্রী মোনালিসার খুনী সাঈদের ফাঁসির দাবী এলাকাবাসীর

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ):  ফতুল্লায় স্কুল ছাত্রী মোনালিসার খুনি সাঈদের ফাঁসি দাবি করে মানববন্ধন পালন করেছেন দেওভোগ হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সর্বস্তরের এলাকাবাসি।

রোববার (৩০ সেপ্টম্বর) সকাল ১১টায় শহীদ খোকন বিশ্বাস সড়কের বাংলাবাজার দেওভোগ হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন।

এ সময় মাববন্ধনে অংশ গ্রহনকারীরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোনালিসা মোনা আমাদেরই মেয়ে ছিল, আমাদেরই বোন ছিল কেন তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? মোনালিসার বাবা তার মেয়েকে হারিয়ে কেন আজ বাকরুদ্ধ? কেন এতো অল্প বয়সে অকালে তার প্রান প্রদীপ নিভে গেল? মোনালিসা হত্যাকান্ডের ঘটনায় শত প্রশ্নের পাহাড় যেন জমা পড়েছে এলাকাবাসীর মনে।

তাদের একটাই দাবি মোনালিসা মোনা হত্যাকান্ডের একমাত্র ঘাতক সাঈদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি ফাঁসি..ফাঁসি.. শুধুই ফাঁসি। যেন এই নর ঘাতককে দেখে আর যেন কারো বাবা মায়ের বুক খালি না হয়। দেওভোগ হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সহপাঠী এই স্কুলেরই ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী মোনালিসা মোনা হত্যার বিচার করা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলন করবো।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ফেব্রায়ারী সন্ধায় সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ বড় আমবাগান এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে স্কুল ছাত্রী মোনালিসা (১২) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে উক্ত এলাকার শাহিন বেপারীর মেয়ে এবং দেওভোগ হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে অতিরিক্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট অশোক কুমার দত্তের আদলতে ১০দিনের রিমান্ড চেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা আসামী আবু সাঈদকে প্রেরন করলে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর মামলাটি নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবিতে) স্থানান্তরের নির্দেশ প্রদান করেন পুলিশ সুপার।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইন্টার পোলের সহযোগিতায় স্কুল ছাত্রী মোনালিসার ঘাতক আবু সাঈদকে দুবাই থেকে আটকের পর ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আইনী প্রক্রিয়া শেষে ফতুল্লা মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। আবু সাঈদ ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ বড় আমবাগান এলাকার ইকবাল হোসেনের ছেলে।