মজুরি বৃদ্ধি করে শ্রমিকদের সম্মান দেয়া হয়েছে- পলাশ

 

স্টাফ রির্পোটার (আজকের নারায়নগঞ্জ):  শ্রমিক কর্মচারী ঐক্যজোট ও ৭৪ সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা কাউছার আহম্মেদ পলাশ বলেছেন, প্রধনামন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন শ্রমিকদের ন্যায্য দাবীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নূন্যতম মজুরী ৮ হাজার টাকা ঘোষনা করেন তখন একটি কুচক্রি মহল এ ঘোষনাকে উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। কিন্তু আমরা সেদিন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনাকে সাধুবাদ জানিয়ে হাজার হাজার শ্রমিক নিয়ে নগরীতে আনন্দ র‌্যালী করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি।

তিনি বলেন,একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল এই ঘোষনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের উস্কানী দিয়ে শ্রমজীবী মানুষদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এছাড়াও কিছু মালিক পক্ষ তাদের কারখানাগুলো এসময় স্থানান্তর করে শ্রমিকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার ষড়যন্ত্র করছে। এছাড়াও প্যারাডাইজ ক্যাবলস লিঃ এর শ্রমিকরা আজ ৩ মাস যাবৎ তাদের থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে। এসব বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।

রবিবার দুপুর ২ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্যজোট ও ৭৪ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার  মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

উপস্থিত শ্রমিক নেতৃবৃন্দের ২০ দফা প্রসঙ্গে রাব্বী মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের হয়ে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে তিনি নূন্যতম মজুরী ৮ হাজার টাকা ঘোষনা করেছেন এবং নারায়ণগঞ্জে শ্রম অধিদপ্তর নির্মিত হয়েছে, শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল ও আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বাকী কাজগুলো অচিরেই সম্পন্ন হবে। নারায়ণগঞ্জ শুধু একটি জেলা নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির নিউক্লিয়াস এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ জেলার রয়েছে অগ্রণী ভূমিকা।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের প্রতি আহ্বান রইলো আপনাদের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন, তারা যেন দেশ প্রেমিক হয়। কারন আগামীতে আপনাদের সন্তানরাই দেশের নেতৃত্ব দিবে। তাদেরকে আপনাদের মত শ্রমিক হতে না হয়, তারা যেন মিল কারখানার মালিক হয়। মালিক শ্রমিক সকলেরই কিছুনা কিছু সমস্যা থাকে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কারন দেশ এখন উন্নয়ণশীল দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, ৭৪ সংগঠন জেলার সমন্বয়ক আবুল খায়ের ভূইয়া, মোঃ গোলাম কাদের, শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবীর, নাজমা আহম্মেদ দিপু, ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স জেলার সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেন্টু, সাধারণ সম্পাদক কবীর হোসেন রাজু, জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের, মামুন খান, মোজাম্মেল হক, আজিজুল হক, হারুন মোল্লা, শাহাদাত হোসেন মোল্লা, জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ বশিরউদ্দিন, মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ, মোঃ আব্দুস সাত্তার, জজ মিয়া প্রমুখ।
আলোচনা সভার পূর্বে ২০ দফা দাবী সম্বলিত একটি স্মারক লিপি জেলা প্রশাসকের নিকট হস্তান্তর করেন শ্রমিসক নেতৃবৃন্দ।