পপুলারে প্রসূতিসহ বাচ্চার মৃত্যুতে ডাঃ তামান্নাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ): পাগলায় নিউ পপুলার জেনারেল হাসপাতালে গর্ভের সন্তানসহ প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে আটককৃত ৫ জনের মধ্যে ৪জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
মামলায় ঘটনার জন্যে দায়ী গাইনী চিকিৎসক জেসিকা রিজভী তামান্না, চিকিৎসক রাহাত আলম,নার্স সুরমা বেগমসহ কয়েকজন স্টাফকে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডাঃ তামান্না ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। আর ডাঃ রাহাত আলম সাধারন এমবিবিএস।

৩০ সেপ্টেম্বর নিহত প্রসূতি শিল্পী বেগমের স্বামী আলমগীর বাদি হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-১১৫,তাং-৩০-০৯-১৮ইং।

উল্লেখিত আসামীদের মধ্যে নার্স সুরমা বেগম ঘটনাস্থল থেকেই আটক থাকলেও বাকী দুইজনকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার বাদী নিহতের স্বামী আলমগীর হোসেন এজাহারে উল্লেখ করেন যে, তার স্ত্রী শিল্পী বেগম ৫ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। এমতাবস্থায় শারিরীক অসুবিধা দেখা দিলে ২৭ সেপ্টেম্বর বিকালে পাগলা বাজার এলাকায় নিউ পপুলার জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক গাইনী বিশেষজ্ঞ জেসিকা রিজভী তামান্নার শরনাপন্ন হন।

চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে জরুরী চিকিৎসার জন্যে উক্ত হাসপাতালে ভর্তি হলে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডাঃ জেসিকা রিজভী তামান্না,চিকিৎসক রাহাত আলম,নার্স সুরমা বেগমসহ অন্যান্য স্টাফের সহায়তায় তার গর্ভবতী স্ত্রীকে অপারেশনের উদ্যোগ নেন।

অপারেশন করাকালীন উক্ত চিকিৎসকদের অবহেলায় তার ৫মাসের সন্তানের কপালে অপারেশনের ধারালো অস্ত্রের আচরযুক্ত মৃত বাচ্চা বের করে আনেন। এর ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে প্রসূতি শিল্পী বেগমের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে এক ব্যাগ রক্ত পুশ করানো হয়। এরপরেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে এম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু মেডিক্যালের গেইটে পৌছালে শিল্পী বেগম মারা যায়।

এ অবস্থায় নিউ পপুলার হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ জেসিকা রিজভী তামান্না,হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ রাহাত আলম,নার্স সুরমা বেগমসহ অন্যান্য স্টাফদের অবহেলা ও অসতর্কতাই ৫ মাসের বাচ্চাসহ প্রসূতি মায়ের মায়ের মৃত্যুর কারন।

এসআই দিদারুল আলম জানান,ঘটনাস্থলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্যে হাসপাতালের পরিচালকসহ কয়েকজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছিল। তবে ঘটনার জন্যে দায়ী চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের হওয়ার পরে নার্স সুরমা বেগমকে গ্রেফতার দেখিয়ে নিরপরাধ বাকীদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।