ধমনিতে বয় পদ্মার ঢেউ

 

– সুলতানা শাহরিয়া পিউ

(জননেত্রি শেখ হাসিনা
জন্মদিনে সম্ভাষণ )

কীর্তিনাশা নদীটির মতো
মেয়েটি আজ কালের সাক্ষ্মী
পঞ্চাশোর্ধ্ব হাস্নুহেনা গাছটির মতো
কালের সাক্ষ্মী মেয়েটির জীবন!
কখনও পরা হয়নি ডায়মন্ড নাকফুল
অথবা রাজশাহী রেশম!
সেই ছোট্টটি যখন
আব্বার সোনালী স্বপন এঁটেছিল
তাঁর কচি দুই চোখে!
সেই থেকে শুরু
সেই থেকে শুরু দিন বদলের পালা
অপমানে যেদিন জ্বলেছিল বর্ণমালা –
মাতার হাতে সেই তাপ ছুঁয়ে
প্রতিজ্ঞা জন্ম নেয় কচি বুকে –
পুতুল খেলার হয়নি অবসর
কখনও কি হয়েছিল জন্মদিন পালন
মনে তো পড়ে না আজ!
শুধু স্মৃতি হয়ে থাকে রোদেলা উঠোন
রবীন্দ্রনাথের গান – ‘যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক
আমি তোমায় ছাড়ব না মা…’
ধমনীতে বয় পদ্মার ঢেউয়ের প্রতিজ্ঞা
আর হিজল, তমাল, শাপলা-শালুক!

একাত্তরে ঘরের চাল-ডাল-তেল-নুন
মা’র হাত ধরে পৌঁছায় অনাহারের পাতে!
আজও জন্মদিনে ভেসে ওঠে সাতই মার্চ,
পঁচিশ মার্চের কাল-রাত,জন্ম থেকে জ্বলছে
জনকের জন্য প্রতীক্ষার দমবন্ধ প্রহর,
প্রত্যাবর্তন দিবস- বার বার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ
প্রতিজ্ঞা রক্ষা বারবার !
আজও বুকে বাজে – ‘আপার কাছে যাব…’
কোলেপিঠে করা পুত্রসম অনুজের ছটফট
সবুজ বদ্বীপের দাবিতে বাঁচতে চাওয়া
বত্রিশ নম্বরের আর্তনাদ –আব্বার অতি
পরিচিত টোব্যাকো পাইপ, মাতার পান-কৌটো,
টুঙ্গিপাড়া, বনানী কবরস্থান!

এবার জন্মদিনে আর একা নয় মেয়েটি,
আত্মজ দেখায় আধুনিক বাংলার স্বপন
পুরানো প্রতিজ্ঞার ঝালাই নতুন সংস্করণ-
স্বজনের রক্ত আর স্বপ্ন বৃথা যেতে দিব না- দিব না
ভুলিতে ভাটিয়ালি-জারি-সারি নজরুল এবং
রবীঠাকুরের ‘তোমার এ খেলাঘরে শিশুকাল কাটিলরে’
এমনি অবিনাশী গান…