‘মিঃ ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকের ব্যাট হাসলে, হাসবে বাংলাদেশও!

 

 ক্রীড়া ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ): বাংলাদেশের মিঃ ডিপেন্ডেবল। একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকার দুইয়ে আছেন টাইগার ব্যাটসম্যান। নামের পাশে সেঞ্চুরি আরো একটি যোগ হতো। বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ডু অর ডাই ম্যাচে ৯৯ রানে আউট হয়েছেন। শতরানের থেকে এক রান দূরে থাকতে শাহীন আফ্রিদির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। এর আগ পর্যন্ত ২২ গজে দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক।  এভাবেই এশিয়া কাপে উড়ছেন মুশফিকুর রহিম।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের যে তিনটি জয় এসেছে, এর দুটি ম্যাচে জয়ের নায়ক মুশফিক। তার তরবারিতে বাংলাদেশ খুঁজে পেয়েছে লড়াইয়ের ঢাল। এবার শেষটা রাঙানোর পালা। ভারতের বিপক্ষে মুশফিকের ব্যাট হাসলে হাসবে বাংলাদেশও।

এশিয়াকাপে এ পর্যন্ত ৫ ম্যাচে ২৯৭ রান নিয়ে মুশফিক দুইয়ে। ৩২৭ রান নিয়ে শীর্ষে ভারতের শিখর ধাওয়ান। তবে মুশফিকের কার্যকারিতা হার মানাবে ধাওয়ান-কীর্তিকেও! প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লিটন ও সাকিব আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন মুশফিক। তখন বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে রান মাত্র ১ । মুশফিক যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কবজিতে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন তামিম। এ ধাক্কা কাটিয়ে উঠার জন্য প্রয়োজন ছিল বিরোচিত ইনিংস। দলে ফেরা মোহাম্মদ মিথুনকে সঙ্গে নিয়ে মুশফিক চতুর্থ উইকেটে যোগ করলেন ১৩১ রান। মিথুনের বিদায়ের পরও মুশফিক থামেননি। একপ্রান্তে থেকে মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক, মিরাজ ও মাশরাফির ফিরে যাওয়া দেখেছেন। তবুও বিচলিত হননি। উইকেটের চারপাশে রান তুলে পৌঁছান তিন অঙ্কে।

দলকে সম্মানজনক স্কোর এনে দিতে শেষে ঝড় তোলেন এ ব্যাটসম্যান। তামিম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে মাঠে নামেন। শেষ উইকেটে ইনিংস লম্বা করার সুযোগটি হাতছাড়া করেননি মুশফিক। গুরুত্বপূর্ণ ৩২ রান যোগ করে মুশফিক সাজঘরে ফেরেন ১৪৪ রানে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে একই চিত্র। ১২ রান তুলতেই নেই ৩ উইকেট। মিথুনকে নিয়ে মুশফিক এদিন জুটি গড়লেন ১৪৪ রানের। আবারও আউট মিথুন। এবার মুশফিক দাঁড়িয়ে ২২ গজের ক্রিজে। শাহীন আফ্রিদিকে চার মেরে ৯৫ থেকে ৯৯-পৌঁছান সহজেই। কিন্তু এক বল পরই পথ ভোলেন। একটু সুইং করা বলে খোঁচা লাগিয়ে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯৯ রানে আউট হওয়ার অনাকাঙ্খিত রেকর্ড যুক্ত হয় তার নামের পাশে। ১১৬ বলে ৯ বাউন্ডারিতে শেষ মুশফিকের ইনিংস।

পাঁজরের ব্যথা আর বুকে টেপ পরে খেলতে নামা মুশফিক দিয়েছেন আরেক পরীক্ষা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে সেঞ্চুরি তুলে দলকে জিতিয়েছিলেন। এবার ৯৯ রান করে দলকে তুলেছেন ফাইনালে। বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। দৃঢ় মনোবল থাকলে যে বড় কিছু পাওয়া যায়, তার আরেকটি প্রমাণ পেল ক্রিকেট বিশ্ব।

ব্যাট হাতে দারুণ সময় কাটানো মুশফিকের সাফল্যের রহস্য কী? পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে শুনিয়েছেন সেই গল্প, ‘আমি আমার সাফল্যের জন্য আমার অনুশীলন পর্বকে কৃতিত্ব দেব। আমার অনুশীলন আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। আপনি যখন ইতিবাচক থাকবেন তখন আপনি সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। সঠিক সিদ্ধান্ত আমাকে আমার ব্যাটিংয়ে অনেক সহায়তা করে। এটা আমাকে ক্রিজে সতেজ এবং চিন্তামুক্ত রাখে।’