পেটে মাথা রেখেই নবজাতকের দেহ ছিঁড়ে বের করে আনে আয়া ও নার্স’

সারাবাংলা(আজকের নারায়নগঞ্জ):  কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা বেগম নামে এক প্রসূতির গর্ভের সন্তানকে স্বাভাবিকভাবে প্রসবের জন্য ভর্তি করানো হয়। কিন্তু ওই হাসপাতালের দুই নার্স ও আয়া প্রসূতির পেটে নবজাতকের মাথা রেখেই সন্তান প্রসব করালেন। পরে তা ডাস্টবিনে লুকানোর চেষ্টাকালে রোগীর স্বজনদের নজরে আসে। এতে প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে পেটে সন্তানের মাথার অংশ রেখে তড়িঘড়ি করে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অপারেশন চালিয়ে গতকাল রোববার ওই প্রসূতির গর্ভ থেকে সন্তানের মাথার অংশ বের করে আনলেও তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন পরিবারের স্বজনরা।
এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।

জানা গেছে, জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের রিকশা চালক সেলিম মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য গেল শনিবার বিকেল পৌনে তিনটার দিকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার ডা. নীলা পারভীনের তত্বাবধানে ভর্তি করানো হয়। ফাতেমার স্বজনরা জানান, প্রসব বেদনা থাকলেও কোনও চিকিৎসক না থাকায় সন্তান প্রসবের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

হাসপাতালের নার্স আছিয়া ও ঝর্ণা রোগীর স্বজনদের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের জন্য বাইরের দোকান থেকে ওষুধপত্র কিনে আনেন। পরবর্তীতে প্রসব বেদনায় প্রসূতি হাসপাতালে চিৎকার করলেও সময়মতো ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক কোনও ব্যবস্থা নেননি।

একপর্যায়ে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নার্স আছিয়া, ঝর্ণা ও আয়া জেসমিন মিলে ফাতেমার গর্ভের সন্তানের পা এবং হাত ধরে টানাটানি শুরু করলে হাত-পাসহ অর্ধেকাংশ ছিড়ে প্রসূতির পেট থেকে বেরিয়ে আসে এবং মাথা ছিড়ে পেটে থেকে যায়। এ অবস্থায় প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে গভীর রাতে প্রসূতিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
রোববার ওই হাসপাতালে অপারেশন করে প্রসূতির পেটে থাকা সন্তানের মাথাসহ অর্ধেকাংশ বের করে আনা হয়। বর্তমানে ওই প্রসূতি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে।

ওই প্রসূতির স্বামী সেলিম জানান, আমি রিকশা চালাই, কার কাছে বিচার চাইব, অভিযোগ কেমনে করবো, কোথায় যাব?
তিনি আরও জানান, ডা: নীলা সরকারি ডাক্তার। তিনি দেবিদ্বারের একটি প্রাইভেটে হাসপাতালে আমার স্ত্রীকে পরীক্ষা করেন। কিন্তু টাকা দিতে পারবো না এ আশঙ্কায় আমাদেরকে পাঠিয়ে দেয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
ডা. নীলার কথামতো আমি সরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় তিনি একবারও আমার স্ত্রীর খবর নেননি। ডাক্তার ও নার্সের অবহেলায়ই আমার স্ত্রী আজ মরতে বসেছে। আমি তাদের বিচার চাই।
এ ঘটনার তদন্তের জন্য দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তামান্না সোলেমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব একই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মনজুর রহমান ও সদস্য মেডিকেল অফিসার ডা. আহসানুল হক।
আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটিকে বলা হয়েছে। কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান জানান, দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়ে আমার কাছে যে তথ্য এসেছে তাতে আমি মর্মাহত। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।