৫দিনের রিমান্ডে দুবাই ফেরত ধর্ষক খুনী সাঈদ

আইন-আদালত(আজকের নারায়নগঞ্জ) : ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগের বাংলাবাজার এলাকার ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুল ছাত্রী মোনালিসা ধর্ষন ও হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামী আবু সাঈদকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ফতুল্লা থানা পুলিশ।
সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্তের আদালতে দুই পক্ষের শুনানী শেষে এ রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করা হয়। অভিযুক্ত আসামী একই এলাকার ইকবাল হোসেনের ছেলে। ঘটনার পরদিন সকালেই দুবাই পালিয়ে যায় সাঈদ।
এদিকে ১৭ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত আসামী আবু সাঈদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে দুবাই পুলিশ। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে ফতুল্লা থানায় আনা হয়।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ফতুল্লা থানার পশ্চিম দেওভোগ বাংলাবাজার বড় আমবাগান এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে স্কুল ছাত্রী মোনালিসা (১২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে উক্ত এলাকার শাহিন বেপারীর মেয়ে এবং দেওভোগ হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।ঘটনার দিন মোনালিসা ও তার ছোট ভাই শাহেদকে বাড়িতে রেখে সকালে বাবা শাহিন বেপারী স্ত্রীকে নিয়ে নরসিংদী শ্বশুড় বাড়িতে বেড়াতে যান। পরে তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মোনালিসার মরদেহ উদ্ধারের কথা জানতে পারেন।তখন শাহিন বেপারী জানান, বিকেলে তার বাড়ির ভাড়াটিয়া তাকে ফোন করে জানান, অজ্ঞাত এক যুবক তার ঘরে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ পরে বের হয়ে যায়। পরে মোনালিসার ছোট ভাইয়ের চিৎকারে এসে দেখে মোনালিসা ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। ঘরে প্রবেশ করে ওই ভাড়াটিয়া ও তাঁর ছোট ছেলে ওড়না কেটে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামিয়ে মোনালিসাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
মোনালিসার ছোট ভাই শাহেদ জানান, ঘটনার দিন বিকেলে পানি পান করার কথা বলে ঘরে ঢুকে একই এলাকার ইকবাল হোসেনের ছেলে সাঈদ। পরে কৌশলে শাহেদকে খেলতে বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সন্ধায় শাহেদ বাসায় ফিরে দেখে মোনালিসাকে ফ্যানের সাথে ঝুলছে।
ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানান, মোনালিসাদের পাশের বাড়িতেই থাকে সাঈদ। কয়েক বছর আগে মোনালিসা মুনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল সাঈদের পরিবার। কিন্তু মেয়ের বয়স অল্প হওয়ায় সাঈদের প্রস্তাবে রাজি হননি মুনার বাবা মা। পরে সাঈদ পাশের মহল্লার ইভা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে। পরে ২ ফেব্রুয়ারী মোনালিসাকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে। পরে ব্যাপারটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার জন্য লাশ ফ্যানের সাথে ঝুঁলিয়ে পালিয়ে যায় আবু সাইদ।
তবে ঘটনার দিনই আবু সাঈদ দুবাই পালিয়ে যায় বলে নিশ্চিত করেছিল তার পরিবার। বিয়ে করার জন্য সাঈদ ঘটনার তিন মাস আগে দেশে আসেন। অগ্রিম রিটার্ন টিকেট থাকায় পালিয়ে যেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।