না‘গঞ্জ বারের অভিষেক বর্জন বিএনপিপন্থি আইনজীবিদের

আইন-আদালত(আজকের নারায়নগঞ্জ):  আইনজীবী সমিতির এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি বর্জন করেছে বিএনপির সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেল থেকে নির্বাচিত ১১ জন আইনজীবী এবং বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা। তাদের অভিযোগ- আইনজীবী সমিতির অতীতে কখনই কোন দলীয় নেতার ছবি সম্বলিত ব্যানার লাগিয়ে সমিতির অভিষেক হয়নি। এটা দলীয় ব্যানারে দলীয় কর্মসূচির মত করা হয়েছে তাই বিএনপির আইনজীবীরা এই অভিষেক বর্জন করেছেন। সমিতিতে ১৭টি পদের মধ্যে ১১টি পদেই রয়েছেন বিএনপির আইনজীবীরা। অভিষেকের ব্যানারে জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিল।

এ বিষয়ে লাইব্রেরী সম্পাদক এড. এ কে এম ওমর ফারুক নয়ন বলেন, আমরা এই অনুষ্ঠান বর্জন করেছি। এই অনুষ্ঠানে আমাদের কেউ থাকবে না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, যে আইনমন্ত্রী বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করে রেখেছে সেই আইন মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জামিন প্রাপ্য হলেও তাকে জামিন দেয়া হচ্ছেনা। উন্নয়নের নামে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হলেই উন্নয়ন করা হয়না। আইনজীবী সমিতির উন্নয়ন হোক সেটা আমরা চাই। কিন্তু কোন হটকারী সিদ্ধান্তে সাধারণ আইনজীবীদের বিপদে ফেলা হোক সেটা আমরা চাইনা।

আইনজীবী সমিতির বর্তমান ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ডিজিটাল বার ভবন তৈরির বিষয়ে বিএনপির আইনজীবীরা বেশকিছু শর্ত দিয়েছিলেন। তাদের শর্তের মধ্যে প্রথম শর্ত হলো- আইনজীবীদের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও জজ কোর্ট একই স্থানে থাকবে তা সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রজ্ঞাপন দেখাতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত হলো- তারপর ভবন নির্মাণ করতে হলে দক্ষিণ প্রান্ত থেকে ভবন নির্মানের কাজ আগে শুরু করতে হবে তারপর ভবন ভাঙ্গতে হবে। শেষ শর্ত হলো- সমিতির বর্তমান ফান্ডে যেই ৭ কোটি টাকা রয়েছে তা কোন ক্রমেই ব্যবহার করা যাবে না এবং এসব সিদ্ধান্ত সমিতি আবারো বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করে সকল আইনজীবীদের মতামত গ্রহণ করে বিল পাস করাতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির প্যানেল থেকে নির্বাচিত ১১ জন আইনজীবীকেও হুশিয়ার দেয়া হয়েছিল যেখানে এর বাহিরে কোন সিদ্ধান্তে সমর্থন তারা না করেন।

এদিকে জানাগেছে, গত ২৮ আগস্ট মঙ্গলবার আইনজীবী সমিতির বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) আইনজীবীদের সর্বসম্মতিতে পুরাতন ভবন ভেঙ্গে আধুনিক বার ভবন তৈরির বিলটি পাস করানো হয়। ৮তলা ভবনে সকল আইনজীবীদের জন্য থাকছে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা।

এ ব্যাপারে আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল জানান, আইনজীবীদের ফান্ডে কোন হাত দেয়া হবে না। আর ভবন নির্মাণ চলাকালীন অবস্থায় আইনজীবীরা জজকোর্টে অবস্থান করবেন। জেলা জজকে অনুরোধ করা হলে তিনি আইনজীবীদের স্বার্থে আমাদের কথায় রাজি হয়েছেন। আশা করা যায় ৬ মাসের ভেতরেই ভবনের নিচতলা সম্পন্ন হবে।

গত ৩০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি থেকে দুটি প্যানেল অংশগ্রহণ করে। ১৭টি পদের বিপরীতে আওয়ামীলীগ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আবুল বাশার রুবেল, কার্যকরী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আব্দুুল মান্নান ও অ্যাডভোকেট রাশেদ ভুইয়া নির্বাচিত হন।