দুবাই ফেরত ধর্ষক ও খুনী আবু সাঈদ ফতুল্লা পুলিশের কব্জায়

স্টাফ রিপোর্টার(আজকের নারায়নগঞ্জ) : অবশেষে ফেরত আসতে বাধ্য হলো  স্কুল ছাত্রী মোনালিসার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার  আসামী আবু সাঈদ। ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করে প্রায় ৯মাস পরে  দুবাই থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করেছে।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ্ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঘটনার পর পরই মোনালিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামী আবু সাঈদ দুবাই পালিয়ে গিয়েছে। এ বছরের এপ্রিল মাসে আসামী আবু সাঈদ দুবাইতে গ্রেফতার করা হয়।

দুবাইতে আইনগত বিভিন্ন প্রক্রিয়া সমাধানের পর আজ রোববার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে, বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পশ্চিম দেওভোগ বাংলা বাজার বড় আমবাগান এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে স্কুল ছাত্রী মোনালিসা (১২)’র ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে উক্ত এলাকার শাহিন বেপারীর মেয়ে এবং কাশিপুর উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।

ঘটনার দিন মোনালিসা ও তাঁর ছোট ভাই সাহেদকে বাড়িতে রেখে শাহিন বেপারী তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে নরসিংদী শ্বশুড় বাড়িতে বেড়াতে যান। তাঁরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মোনালিসার মরদেহ উদ্ধারের কথা জানতে পারেন ।

শাহিন বেপারী জানান, বিকেলে তাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া তাঁকে ফোন করে জানান- অজ্ঞাত এক যুবক তাঁর ঘরে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ পরে বের হয়ে যায়। পরে মোনালিসার ছোট ভাইয়ের ডাক-চিৎকারে এসে দেখে মোনালিসা ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। ঘরে প্রবেশ করে ওই ভাড়াটিয়া ও তাঁর ছোট ছেলে ওড়না কেটে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামিয়ে মোনালিসাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

মোনালিসার ছোট ভাই শাহেদ জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে পানি পান করার কথা বলে ঘরে ঢুকে একই এলাকার ইকবাল হোসেনের ছেলে সাঈদ। পরে কৌশলে শাহেদকে খেলতে বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সন্ধায় শাহেদ বাসায় ফিরে দেখে মোনালিসা ফ্যানের সাথে ঝুলছে।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মোনালিসাদের পাশের বাড়িতেই থাকে সাঈদ। কয়েকবছর আগে মোনালিসা মুনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল সাঈদের পরিবার। কিন্তু মেয়ের বয়স অল্প হওয়ায় সাঈদের প্রস্তাবে রাজি হননি মুনার বাবা মা। পরে সাঈদ পাশের মহল্লার ইভা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে।

পরে ২ ফেব্রয়ারীর একা বাড়ি পেয়ে স্কুল ছাত্রী মোনালিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। পরে ব্যাপারটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার জন্য লাশ ফ্যানের সাথে ঝুঁলিয়ে দেয়া হয়।

ঘটনার দিনই আবু সাঈদ দুবাই পালিয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছিলো তাঁর পরিবার। বিয়ে করার জন্য সাঈদ ঘটনার তিন মাস আগে দেশে আসেন । অগ্রিম রিটার্ন টিকেট থাকায় পালিয়ে যেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি।