অথচ এখানে আসার পথে দেখলাম রাস্তা ভাঙ্গা,মনটা ভালো না’

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ):  নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, সত্যি কথা বলতে গেলে আমার মনটা ভালোনা। আমি এখানে মেম্বারের সাথে খারাপ ব্যবহার করছি। চেয়ারম্যানের সাথে তো এখনো কথাই বলি নাই। কেন? ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকার কাজ করেছি অথচ এখানে আসার সময় দেখলাম রাস্তাটা ভাঙা। কেন আমাকে জানানো হলোনা। জানানোর দায়িত্বটা তো আপনাদের ছিল। জানানোর পর আমি তাহলে বলতে পারতাম এই কাজটা প্রক্রিয়াধীন আছে। আমি আবার আসবো, আমাকে এখন কয়েকটা কাগজ দিয়েছে। এই কাগজগুলো যদি আগে দিতেন আমি হয়তো কাজটার সুসংবাদ দিতে পারতাম।
শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফতুল্লার তুষারধারা এলাকায় পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামীম ওসমান বলেন, আমার দায়বদ্ধতা আছে। কারণ আজকে আপনারা আমাকে ভিআইপি হিসেবে সম্মানিত করেছেন। সারাদেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে সাড়ে ৩শ মানুষকে আল্লাহ এই সম্মানিত করেছেন। হুকুম দিয়েছেন আল্লাহ তামিল করেছেন আপনারা। তার উপরে শুধু ভিআইপি সম্মানই দেননি সাথে আবার বেতনও দেন, আরো অনেক ফ্যাসিলিটিস (সুবিধা) দেন। তাহলে দায়িত্বটা আমাদের কিন্তু থাকেই।
শামীম ওসমান আরো বলেন, এক অনুষ্ঠানে আমার নেতা ওবায়দুল কাদের বলেন তোর কি বয়স এখনো আগের মত আছে? আমি বলেছি, আমার বয়স যদি ৮০ বছর কিংবা ১০০ বছরও হয় আমার এলাকার প্রশ্নে আমি কাউকে চিনিনা। আগে আমারটা দেন তারপর কথা হবে। আমার বাংলাদেশ, আমার নারায়ণগঞ্জ নিয়ে আগে ভাববো তারপর সবকিছু নিয়ে ভাববো। আমি শপথ নিয়েছি আল্লাহ নামে কোন আবেগ না কোন অনুভূতি না আমি আমার এলাকার কাজ করবো এজন্য।
তিনি আরো বলেন, আমি ৯৬ তে যখন এমপি হয়েছিলাম তখন এমপিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৬শ কোটি টাকার কাজ করেছিলাম। এবার যখন আসলাম সবাই জিজ্ঞাসা করলো টার্গেট কি আমি বললাম গতবারের রেকর্ড ভাঙবো। এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকার কাজ আমরা সম্পন্ন করতে পেরেছি আল্লাহর হুকুমে।
তিনি বলেন, গত পরশু দিনের আগের দিন পার্লামেন্টে বসে সকল এমপিদের সাথে প্রধানমন্ত্রী কথা বলছিলেন। উন্নয়ন নিয়ে কথা উঠার পর তিনি বললেন, আগে মানুষকে শান্তি দাও। মানুষ টাকা চায়না, পয়সা চায়না, রাস্তাঘাট চায়না কিন্তু শান্তি চায়। মানুষ চায় আমি আমার মত কামামু আমার ঘরের মধ্যে যেন সন্ত্রাসী চোর ডাকাত না আসে। আমার জমি আমি কিনলাম আমার জমিতে যেন সাইনবোর্ড না পড়ে, ওয়ারিশ এটা সেটা।
তিনি বলেন, আমাকে ভোট দেন আমি বলবোনা, আমি ভোট চাইও না। আম গাছ লাগাইলে আম খাবেন, জাম গাছ লাগালে জাম খাবেন আর কাঠাল গাছ লাগালে কাঠাল খাবেন। তবে আমি একটা কথা বলতে চাই, এখানে কেউ একটা মাদক বিক্রি করতে পারবেনা, সন্ত্রাসী করতে পারবেনা জঙ্গীবাদী করতে পারবেনা। আপনারা দুই হাত তুলে কথা দেন, আপনারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন, সকলের তথ্য দেন পুলিশকে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদেরের (পিপিএম) সভাপতিত্বে এতে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মেহেদী হাসান ইমরান,জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা জাকিরুল আলম হেলাল, সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন,ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, ইউনুস দেওয়ান,আলাউদ্দিন হাওলাদার, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক,যুবলীগ নেতা নিশাত, ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (আইসিটি) গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।