রামধনু ওঠে হেসে

– সুলতানা শাহরিয়া পিউ

মনটা ছুটে গিয়েছিলো এক্কেবারে-
বুকের ভেতর কেমন যেন মোচড় দিলো!
ক’দিন আগে অঞ্জলি যখন বলল,
“মা, রেইন-বো টা যে আমার কি ফেভারিট!”
আমি তখন জামার ডিজাইন করছিলাম-
“আমার জামায় একটা রেইন-বো ক’রে দাওত”
অঞ্জলি তখন ছবি আঁকছিল-
“এই দ্যাখোনা আমার সব ছবিতে
ক্যামন সাত রঙ দিতে চাই আমি। কিন্তু
কত ছোটবেলায় যে দেখেছি রেইন-বোকে!
তুমি যাকে বল রামধনু না রংধনু
অল্প অল্প মনে পড়ছে আজ,
আর অঞ্জনতো দ্যাখেইনি!”
হায় ঈশ্বর! এমনই এক জিনিস চাইল দেখতে
যা কিনা বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে বা বর্ডার গার্ড
স্কয়ারের কোন সিডির দোকানে মিলবে না;
সৃষ্টিকর্তা না চাইলেত আর হবারও জো নেই!

কাল কুমিল্লা আসার পথে দু’ধারে কাশফুলের
দেখা মিলল কত- ওরাতো বলে উঠলো
“দুই ধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা” মেঘনার
বুকে সারি সারি নৌকার হাতছানিতে মুগ্ধ প্রাণ
গেয়ে উঠলো ভাটিয়ালি গান- “মনমাঝি তোর
বৈঠা নেরে আমি আর বাইতে পারলাম না “-
কোথায় যেন বুকের সেই মোচড় দেয়া ব্যাথাটা
রইলো জেগে!

ময়নামতির লালমাই পাহাড়, বিহার ঘুরে
বিকেলে কনকের ফিশারিজে যাবার পথে
হঠাৎ দেখা ! এ কি !
হৃদযন্ত্রতো বন্ধ হবার দশা আমার!
গাড়ি থামাও গাড়ি থামাও –
রামধনু ! রামধনু ! রামধনু !
নিজের চিৎকারে চমকে উঠি নিজেই–
গাড়ির ছাদের কাচ সরিয়ে বাড়িয়ে গলা
ওদের খুশীর চীৎকারে রংধনুও কেঁপে ওঠে খানিক!
“ওহ, রংধনু ! বাচ্চাদের থেকেও বাচ্চা তুমি !”
কনক-কাকলি হেসে ওঠে একসাথে ;
তোরা বুঝবিনা বুঝবি না রে
ওই রংধনুর সৃষ্টিকর্তা যে আজ আমায় কি দিল !
বুঝবি না তোরা বুঝবি না…” হৃদয় আমার নাচেরে
আজিকে ময়ূরের মতো নাচেরে… প্রকৃতি গেয়ে ওঠে
দিকবিদিক – “আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে”
গেয়ে ওঠে আমার প্রাণ – “ওহ রেইন বো ওহ রেইন বো
আওয়ার লাভলি রেইন বো” গেয়ে ওঠে ডিজিটাল কিশোর !

ঢাকায় ফেরার পথে জানা গেলো, শারদীয়ায়
মাতৃভাণ্ডারের রসমালাই আর ছানামুখির আকাল–
তাতে কোন দুঃখবোধ হ’ল না –ময়নামতির
লালমাই পাহাড় , শালবন বিহার , আর
রামধনু! রংধনুত দেখা হ’ল …

…যেথা রামধনু ওঠে হেসে আর ফুল ফোটে ভালবেসে
বল তুমি যাবে কিগো সাথে এই পথ গেছে সেই দেশে।