আফগানদের বিপক্ষে পাকিস্তানের ঘাম ঝরানো জয়

ক্রীড়া ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ):  এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আফগানদের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান শক্তি হিসেবে আলোচিত আফগানদের ৩ উইকেটে হারিয়েছে সরফরাজবাহিনী।

শুক্রবার আবুধাবিতে এশিয়া কাপের সুপার ফোরের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে আফগানরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৫৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েন তারা।
খেলার শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১০ রান। কিন্তু ওই ওভারে আফগান বোলার আফতাব আলমের প্রথম বলে কোনো রান নিতে পারেননি শোয়েব মালিক। এবার প্রয়োজন ৫ বলে ১০ রান। কিন্তু পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিক দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকান। এই ছক্কায়ই মূলত ম্যাচ পাকিস্তানের পক্ষে হেলে পড়ে। এবার তিন বলে প্রয়োজন মাত্র ৪ রান। তৃতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে ৩ বল আগেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

৪৩ বলে ৫১ রানের কার্যকর ইনিংস উপহার দিয়ে জয়ে বিশেষ অবদান রাখা শোয়েব মালিক খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন।

২৫৮ রানে খেলতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ইনজামামউল হকের ভাতিজা ইমাম-উল-হক ও বাবর আজম কার্যকর জুটি গড়ে তোলেন। দ্বিতীয় উইকেটে ১৫৪ রানের জুটি গড়েন তারা। ইমাম-উল-হক ৮০ রান করে দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হন। ১০৪ বলে খেলা তার ইনিংসটি ছিল পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো।

ইমাম-উল হক আউট হওয়ার ৪ রানের ব্যবধানে ফেরেন সেট ব্যাটসম্যান বাবর আজম। রশিদ খানের গুগলি বলে বিভ্রান্ত হওয়ার আগে ৯৪ বল খেলে ৬৬ রান করেন বাবর আজম।

মুজিবুর রহমানের তৃতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ২১ বলে মাত্র ১৩ রান করেন হারিস সোহেল।

এর আগে হাসমত উল্লাহ শহীদির ক্যারিয়ার সেরা ৯৭ এবং আসগর স্টানিকজাইয়ের ৬৭ রানের ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটে ২৫৭ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান।

ইনিংসের শুরুতে ৩১ রানে দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়া আফগানিস্তানকে খেলায় ফেরান রহমত শাহ ও হাশতউল্লাহ। তৃতীয় উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন রহমত শাহ (৩৬)।

এরপর অধিনায়ক আসগর স্টানিকজাইকে সঙ্গে নিয়ে ১০৪ রানের জুটি গড়েন হাশমতউল্লাহ। সাম্প্রতিক সময়ে অফ ফর্মে থাকা আফগান অধিনায়ক পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অসাধারণ ইনিংস খেলেন। তার ৬৭ রানের ইনিংসটি ৫৬ বলে পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চারে সাজানো।

এরপর সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবি এবং নজিবউল্লাহ জাদরান ৭ ও ৫ রানে ফিরে গেলেও ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলে যান হাশমতউল্লাহ। ১১৮ বল খেলে সাত চারের সাহায্যে ৯৭ রান করেন তিনি।