ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ):  এশিয়া কাপের মঞ্চে সুপার ফোরের ম্যাচে ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করল বাংলাদেশ।

ব্যাট-বলের কোনো লড়াই-ই হলো না। একক আধিপত্য দেখিয়ে ভারত ম্যাচ জিতেছে। নিরুত্তাপ ম্যাচে বাংলাদেশের নেই কোনো অর্জন। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৭৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। জবাবে ৮২ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে টিম ইন্ডিয়া।

তামিমের অনুপস্থিতি যেন বুঝিয়ে দিয়েছে, ওপেনিংয়ে তাকে ছাড়া পুরো দল অচল! একাধিক সুযোগ পাওয়া লিটন আবারও ব্যর্থ। নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা নাজমুল আউট হয়েছেন এলোপাথারি শটে। দুজনের ব্যাট থেকে এসেছে ৭ করে রান।

১৯১তম ওয়ানডে খেলতে নামা সাকিব আউট হয়েছেন ধোনির পাতা ফাঁদে পা দিয়ে। জাদেজার প্রথম ওভারে পরপর দুই বলে দুই বাউন্ডারি মেরে সাকিব ভালো শুরু করেছিলেন। সুইপ করে স্কয়ার লেগ দিয়ে দ্বিতীয় বাউন্ডারিটি মেরেছিলেন। স্লিপ থেকে ধাওয়ানকে সরিয়ে স্কয়ার লেগে নিয়ে আসেন রোহিত। ধোনির পরামর্শে ফিল্ডিং পরিবর্তন করেন ভারতের অধিনায়ক। তাতেই সাফল্য পেয়ে যায় ভারত। একই বল, একই শট। এবার সাকিব আউট। ১২ বলে ১৭ রান করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

মুশফিক (২১) ও মিথুন (৯) আজ ছিলেন নিষ্প্রভ। দুজনকেই ফেরান হার্দিক পান্ডিয়ার পরিবর্তে দলে ফেরা জাদেজা। মাহমুদউল্লাহর ব্যাড লাক। আউট হয়েছেন আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে। ভুবনেশ্বর কুমারের সোজা বল মিস করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে বল আঘাত করে তার প্যাডে। কিন্তু আম্পায়ার তাকে এলবিডব্লিউ দিয়ে সাজঘরের পথ দেখান। ৫১ বলে ২৫ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। মোসাদ্দেক আজও ফ্লপ। জাদেজার কোটার শেষ ওভারে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাত্র ১২ রানে।

মাশরাফিকে নিয়ে মিরাজ একা লড়াই করেছেন। দুজনের সর্বোচ্চ ৬৬ রানের জুটি মান বাঁচিয়েছে বাংলাদেশের। মিরাজ ৪২ ও মাশরাফি ২৬ রান করেন। ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হন শুরু থেকে। পুরো দলের সমস্যার নাম ডট বল। স্ট্রাইক রোটেট করতে না পারায় দুই প্রান্ত থেকে চাপ বেড়েছে প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশের ইনিংসে ডট বলের সংখ্যা ছিল ১৯০টি। এ পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কতটা ধুঁকেছেন ব্যাটসম্যানরা।

জাদেজা ২৯ রানে নেন ৪ উইকেট। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। ৩টি করে উইকেট নেন বুমরাহ ও ভুবনেশ্বর।

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রোহিত শর্মা ও শেখর ধাওয়ান উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। ৬১ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন তারা। ১৫তম ওভারে এ জুটি ভাঙেন সাকিব। সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ৪৭ বলে ৪০ রান করা ধাওয়ান। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আম্বাতি রাইডু। রুবেলের বলে ১৩ রানে ক্যাচ দেন উইকেটের পিছনে। রিভিউ নিয়ে রাইডুকে সাজঘরে পাঠায় বাংলাদেশ।

এরপর তৃতীয় উইকেট জুটিতে জয়ের কাছাকাছি চলে যায় ভারত। রোহিতকে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন ধোনি। জয়ের থেকে মাত্র ৪ রানে দূরে থেকে মাশরাফির বলে আউট হন ৩৭ বলে ৩৩ রান করা ধোনি। বাকি কাজটুকু সারেন দিনেশ কার্তিক ও রোহিত। ১০৪ বলে ৮৩ রান করেন রোহিত। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। কার্তিকের ব্যাট থেকে আসে ১ রান।

সুপার ফোরের পরের ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে শেষ দুই ম্যাচে জয় পেতেই হবে বাংলাদেশকে। পাশাপাশি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হারের প্রত্যাশাও করতে হবে।