রশীদ খান দ্যা গ্রেট, পাত্তা পেলো না মাশরাফি বাহিনী!

ক্রীড়া ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ): তাহলে কি রশীদ খানের সেই মন্তব্য বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে ? বাংলাদেশকে ভাবার সময় নেই,ঐ কাপটা আমাদের দরকার। তারই ধারাবাহিকতায় রশীদ খানের অলরাউন্ড নৈপূন্যে আফগান ঝড়ে শ্রীলঙ্কার মতই বিধ্বস্ত বাংলার টাইগাররাও। যদিও সুপারফোরে আগেই জায়গা করে নিয়েছিল আত্নবিশ্বাসী মাশরাফিরা। নইলে কি যে অবস্থা হতো,এমনি প্রশ্ন ঘুরপাক টাইগার সমর্থকদের।

ব্যাটিং বিপর্য়য়ে বাংলাদেশের মাহমুদুল্লাহ যখন উইকেটে এসে সাকিবের সঙ্গে জুটি বাঁধলেন তখন সকলেই আশা করেছিলেন এ দুজন হয়তো কার্ডিফের মতো একটি মজবুত জুটি গড়ে ম্যাচ জয়ে ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু সে রকম কিছুই করতে দেননি ২০এ পা দেয়া তরুন রশিদ খান।
রশিদ খানের ২০তম জন্মদিনে বাংলাদেশকে ১৩৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলো আফগানিস্তান।
বৃহস্পতিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক আসগর আফগান। এ ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক ঘটে নাজমুল হোসাইন শান্ত ও আবু হায়দার রনির।
অভিষিক্ত রনির বলে স্কোরবোর্ডে ১০ রান উঠতেই বিদায় নেন আফগানদের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইনসানউল্লাহ। দলীয় ২৮ রানের আবারও রনির আঘাত এবার ফিরে যান আগের ম্যাচের হাফসেঞ্চুরিয়ান রহমত উল্লাহ।
এরপর ইনিংসের মাঝখানে আঘাত হানেন এ সিরিজে হারিয়ে যেতে বসা সাকিব আল হাসান। দেখতে দেখতে ৪১ ওভারে ১৬০ রান তুলতেই আফগানদের ৭ উইকেট হাওয়া। এরপরই নিজের জন্মদিনকে রাঙিয়ে রাখতে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন রশিদ খান।

গুলবদিন নাইবকে নিয়ে অষ্টম উইকেট জুটিতে শেষ আট ওভারে স্কোরবোর্ডে তুললেন ৯৫ রান। যার ৫৭ রানই হলো বার্থডে বয়ের। এ রান তুলতে খরচ করেছেন মাত্র ৩২টি বল। যেখানে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছয়ের মার। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভার শেষে আফগানিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান।
বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব ৪টি, রনি ২টি ও রুবেল ১টি উইকেট তুলে নেন।
আফগানিস্তানের দেয়া ২৫৬ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে ১৭ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে দুই উইকেট। তৃতীয় উইকেটে এসে সাকিব বিপর্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু অন্যপ্রান্ত দিয়ে নিয়মিত উইকেট তুলে নিচ্ছিল আফগান বোলাররা। শেষ পর্যন্ত সাকিব ৫ম উইকেট হিসেবে রশিদ খানের বলে এলবির শিকার হন।
শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লে ৪২.১ ওভারে ১১৯ রানে গিয়ে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ব্যাটিংয়ে ৩২ বলে ৫৭ রানের অপরাজিত অর্ধশত ও বোলিংয়ে এসে ২ উইকেট তুলে নেয়ায় ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান রশিদ খান।
এদিকে গতকালের লড়াই শেষে আজই আবার মাঠে নামতে হচ্ছে দুই দলকে। এশিয়া কাপে সুপার ফোরের লড়াই শুরু হচ্ছে আজ থেকেই। দুবাইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, আবুধাবিতে পাকিস্তান খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।