শীতলক্ষ্যাসহ ৩টি নদীর তীরে হাটার পথ হচ্ছে ২২০ কিলোমিটার

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ নদীর তীরে অবৈধ দখল ঠেকানোর জন্য  ঢাকার পাশের তিনটি নদীর দুই তীরে ২২০ কিলোমিটার হাঁটার পথ তৈরি করবে সরকার। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরে এ প্রকল্পের জন্যে ব্যয় করা হচ্ছে সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নদী দূষণ রোধ ও নাব্যতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ৩৮তম সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, ইতোমধ্যে তিন নদীতে ২০ কিলোমিটার হাঁটার পথ নির্মাণ করা হয়েছে। আরো ৫০ কিলোমিটার পথ নির্মাণ কাজ আগামী ৫ অক্টোবর শুরু হবে। বাকি ১৫০ কিলোমিটার পথ নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে সভায় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আরো জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশে নদী দখল রোধে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ, উত্তরখান, তুরাগ, মোহাম্মদপুর, কামরাঙ্গীরচর, কোতোয়ালী ও মিরপুর থানা, গাজীপুর জেলা সদর এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর, বন্দর ও সোনারগাঁও উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। ‘বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

রাজধানী বুড়িগঙ্গা, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে বেষ্টিত। এসব নদীপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে ৩টি নদীবন্দরও রয়েছে। কিন্তু নদীর তীরভূমির বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ দখলদারদের দখলে রয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নৌ পথ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএর। তাই ২০০১ সাল থেকেই সংস্থাটি তীরভূমির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়। ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে অনেক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। তারপরও পুরোপুরি উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। তাই ঢাকা মহানগরীর চারদিকে নদীর তীরভূমি স্থানগুলোতে ওয়াকওয়ে নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে সভায় অবহিত করা হয়।