ফতুল্লায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে চাঁদাবাজির চেষ্টা, গণধোলাই

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ):   ফতুল্লায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায়ের চেষ্টাকালে ৬ কথিত সাংবাদিককে গণধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী।বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে ফতুল্লার পাগলা চিতাশাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ৬ জনকে উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি।

গণধোলাইয়ের শিকার ব্যক্তিদের ৩ জনই একটি পত্রিকার সাংবাদিক বলে পরিচয় দিয়েছেন। এর মধ্যে একজন একটি আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থার নেতা পরিচয় দিয়েছেন। গণধোলাইয়ের শিকার ব্যক্তিরা হলেন, শফিকুল ইসলাম, শেখ মুজিব মুন্না, সেলিম নিজামী, রিয়াজুল ইসলাম, গাজী মোঃ রফিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হাসান।
এলাকাবাসী জানান, গণধোলাইয়ের শিকার কথিত ওই সাংবাদিকরা এর আগেও ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রবেশ করে গ্যাসের সংযোগের বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা দেখতে চায়। কারো কাগজপত্র না থাকলে অর্থাৎ অবৈধ হলে তাদেরকে সংযোগ বিচ্ছিন্নের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করে। কয়েকদিন আগে রসুলপুর এলাকাতেও কয়েকজনের বাসায় প্রবেশ করে মহিলাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের সঙ্গে তিতাস গ্যাসের অসাধু কিছু লাইনম্যানও রয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর বুধবার চক্রটির ১০ থেকে ১২ জন সদস্য  চিতাশাল পূর্ব মুসলিমপাড়া এলাকার দিদার দেওয়ানের বাড়ির একটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এসময় তিতাস গ্যাসের কতিপয় অসাধু লাইনম্যানও ছিল। তখন তারা বাড়ি বাড়ি প্রবেশ করে গ্যাসের সংযোগের বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা দেখতে চায়। এতে করে এলাকাবাসী বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে। এর মধ্যে কয়েকজন বৈধ সংযোগধারীকেও তারা সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকী দেয়। তখন বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী তাদের উপর চড়াও হয়ে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখে।
কুতুবপুর ইউপি মেম্বার আলাউদ্দিন হাওলাদার জানান, বুধবার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নামে একটি বৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে এলাকাবাসী ক্ষুব্দ হয়ে তাদেরকে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে তিনিসহ ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের এসআই ফজলুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আটককৃতদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

তিনি আরো জানান,  গণধোলাইয়ের শিকার ওই যুবকরা এর আগেও বিভিন্ন বসতবাড়িতে গ্যাসের সংযোগের কাগজপত্র দেখার নাম করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে আসছিল। এলাকাবাসীর বক্তব্য হলো গ্যাসের সংযোগ অবৈধ হলে সেটা দেখতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। ওই সকল নামধারী সাংবাদিকরা কেন গ্যাসের কাগজপত্র দেখতে চাইবে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি এস এম মঞ্জুর কাদের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে  । তবে কোন পক্ষই থানায় কোন ধরনের অভিযোগ দেয়নি।