‘যার কাজ তারেই সাজে’

– দিলীপ গুহঠাকুরতা

গৃহপালিত দু’টো প্রাণী – একটি কুকুর, আরটি গাধা,
ওদের মালিক ছোটখাটো ব্যবসায় কাজে ছিল বাঁধা।
সেই বাড়িটির সবার কাছে কুকুর গাধার ছিলো কদর।
সন্ধ্যারাতে মনিব ফিরে ওদের অনেক করতো আদর।

হঠাৎ যেন ক্যামন করে ব্যবসায় বেশ লোকসান হলো।
ক’দিন যেতেই পরিবারটা অনটনে ডুবে গেলো।
একক আয়ে বড় সংসার, তিনবেলা আর পায়না খেতে।
যতসামান্য খাবার আসে কুকুর গাধার আহার পাতে।

এমন দিনে সেই বাড়িতে একটি রাতে আসলো যে চোর।
বাড়ির সকল মানুষ তখন নিশিথ রাতে ঘুমে বিভোর।
চোরের দেখা পেয়েও কুকুর রইলো বসে বোবা-নির্বাক।
গাধা বলে, কুকুর তোমার কোথায় গেলো ঘেউ ঘেউ ডাক?
কুকুর বলে, এই বাড়িতে চোরের ব্যাটা পাবেটা কী,
‘ঘেউ ঘেউ’ যে ডাকবো আমি – সেই শক্তি আছে না কি!
গাধা তখন গায়ের জোরে ভ্যা ভ্যা করে দিলো চিৎকার।
চোরটা ভয়ে চুরি ছেড়ে দুই লাফেতে পগাড় পার।

গাধার বিকট ডাকের তোড়ে বাড়ির সবার ঘুম ভেঙে যায়।
ইতিউতি খোঁজ করেও কোন কিছুই দেখতে না পায়।
রেগেমেগে বলল মালিক, ‘তুই তো গাধা বড় নচ্ছার,
ভ্যা ভ্যা করে মাতিয়ে পাড়া, টুটিয়ে দিলি নিদ্রা সবার।’
এই না বলে গাধার পিঠে লাঠি দিয়ে মারলো ক’ ঘা,
যে যার ঘরে গেলো চলে, গাধার চোখে অশ্রুধারা।

‘সবটাই তুই দেখলি কুকুর, আজ মনিবের ক্যামন বিচার,
ক্ষুধা পেটে চোর তাড়ালাম, বিনিময়ে এই উপহার!’

কুকুর বলে, ‘তুইতো গাধা, সত্যিকারের গাধা বটে,
এমন করে খেতিস না মার, বুদ্ধি যদি থাকতো ঘটে।
পাহারা দেয়া কাজটি আমার, তাইতো সবাই তারিফ করে।
আমার গলার আওয়াজ পেলে চোর ছ্যাঁচোরে পালায় ডরে।
আজকে যদি ঘেউ ঘেউ করে বাড়ির সবার ঘুম ভাঙাতাম,
চোরের হদিস না পেলেও বুঝতো আমার ডাকের কী দাম।
ভ্যা ভ্যা ডাকে ঘুম ভাঙালি, যে কারণে মারলো তোকে,
আমার ডাকে ভাঙলে সে ঘুম, তবুও আদর করতো লোকে।’

এই জগতের নিয়ম এমন – যার যেটা কাজ তারই শ্রেয়।
পরের কাজে নাক গলালে – নাকাল হবে, নয়তো হেয়।