শেখ হাসিনার মত শ্রমিকদের জন্যে বাংলার ইতিহাসে কেউ করেনি – পলাশ

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক:  যখন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পোশাক শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরী ৮ হাজার টাকা ঘোষণা করেছেন। তখন একটি পক্ষ এর বিরুদ্ধে শ্রমিকদের উস্কানী দেয়ার চেষ্টা করছে। অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে। অনেকে আবার পর্দার আড়াল থেকে খেলার চেষ্টা করছে।

কিন্তু এতে কোন কাজ হবে না। শ্রমিক বান্ধব শেখ হাসিনা শ্রমিকদের জন্য যা করছেন,তা বাংলার ইতিহাসে আগে কেউ শ্রমিকদের জন্য করেনি। এখানেই বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরীর স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। আমরা এ জন্য শেখ হাসিনাকে সাধুবাদ জানাই।

পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করায় শুক্রবার বিকেলে শহরে আনন্দ মিছিল পরবর্তী বক্তব্যে, চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভের সামনে জাতীয় শ্রমিক লীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যান বিষয়ক সম্পাদক কাউছার আহম্মেদ পলাশ এসব কথা বলেন।

কাউসার আহম্মেদ পলাশ বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত আমাদের সংগ্রাম ও দাবির প্রতিফলন ঘটেছে। আমাদের দাবি ছিল, নূন্যতম বেতন আমাদের দিতে হবে। অনেকে অনেক দাবি তুলেছিলেন। কেউ বলেছেন, ১০ হাজার, কেউ ১২ হাজার, কেউবা ১৬ হাজার টাকার দাবি তুলেছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনা করে শ্রমিকদের নূন্যতম বেতন করেছেন ৮ হাজার টাকা। পাশ্ববর্তী দেশগুলোর নূন্যতম মজুরীর তুলনায় জননেত্রী শেখ হাসিনা অনেক বৃদ্ধি করেছেন। শ্রীলঙ্কায় নূন্যতম মজুরী ৬৫ ডলার। আর গতকালের ঘোষণায় বাংলাদেশের মজুরী হয়েছে প্রায় ১০০ ডলার। তিনি সার্বিক দিক বিবেচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সময়সাপেক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে আমরা ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেকে এর ভুল ব্যাখ্যা দিতে পারে। ৮ হাজার টাকা প্রথমে হেলপার হিসেবে ঢুকলেই। কিন্তু গ্রেড অনুযায়ী অপারেটর, সিনিয়র অপারেটরের বেতন ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার, ১২ হাজারে উন্নীত হবে। এবার প্রমাণ হয়ে গেলো, জ্বালাও পোড়াও ভাঙচুরের মাধ্যমে দাবি আদায় করা যায় না। আলোচনার মাধ্যমেই দাবি আদায় হয়। আগামী দিনে এই নারায়ণগঞ্জে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় হবে শ্রমিকের।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে মজুরী কাঠামো ঘোষণা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। এ ঘোষণার পর তাৎক্ষনিক বৃহস্পতিবার রাতেই আলীগঞ্জের লেবার হলে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিয়ে একটি সভা ও আনন্দ মিছিল করেন শ্রমিক নেতা আলহাজ্ব কাউছার আহম্মেদ পলাশ।

শুক্রবার বিকেলে কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়ে একটি আনন্দ মিছিল করেন পলাশ। পুরো মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। মিছিলটি চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভ থেকে বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিজয় স্তম্ভে এসে শেষ হয়। এসময় ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স এর না’গঞ্জ জেলা সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে লাল ঝান্ডা নিয়ে শহরে কয়েক হাজার শ্রমিক উপস্থিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর শ্রমিকদের মজুরী ৩ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার ৩’শ টাকায় উন্নীত করেছিলেন। বৃহস্পতিবার তা উন্নীত করে ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। মজুরী কাঠামোতে শ্রমিকদের বেসিক ৪ হাজার ১’শ,বাড়ি ভাড়া ২ হাজার ৫০, চিকিৎসা ভাতা ৬’শ, যাতায়াত ৩’শ ৫০ ও খাদ্যভাতা ৯’শ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।