বন্দরে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তণ!

বন্দর(আজকের নারায়নগঞ্জ):   বন্দরে ৯নং কলোনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অপরিপক্ক পরিচালনা কমিটির উদাসিনতার কারনে স্বনামধন্য বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তণ করে ভবন উদ্বোধণ উপলক্ষে নিমন্ত্রন কার্ড ছাপানো হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২১নং ওয়ার্ডস্থ ৯নং কলোনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ তলা ভবন উদ্বোধণ অনুষ্ঠিত হইবে।

জানা গেছে, বন্দরের ৯নং কলোনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪তলা ভবন উদ্বোধণকে কেন্দ্র করে নিমন্ত্রন পত্রে শাহীমসজিদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় লিখে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

অথচ একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মনগড়া সিদ্ধান্তনুযায়ী পরিচালনা কমিটি হটকারী এ সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

একটি সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্কুল পরিচালনা কমিটি ক্ষমতার দম্ভে যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াচ্ছে বলে সচেতন মহলও ক্ষোভ প্রকাশ করে নানা আলোচনা-সমালোচনা করার গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিদ্যালয়ের এক অভিভকাবক জানান,বলদ দিয়ে কখনো হাল চাষ হয়না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত লোকদেরই কমিটিতে রাখা উচিৎ। কেননা, পৌরসভার বাইরের নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাম পরিবর্তনে ৩০ লাখ টাকা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা যাচাই করতে চার স্তরের কমিটি গঠন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রথমে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির অনুমোদন নিতে হবে। এরপর বহুল প্রচারিত দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে।

নাম পরিবর্তন আবেদন যাচাই-বাছাই করবে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি করতে হবে। চূড়ান্তভাবে এ কমিটি নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করলেই তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। আর এসব নিয়ম নীতি না জেনেই তারা একটি সরকারী বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে নিমন্ত্রন পত্র ছাপিয়ে বিলি করছে। যা নেহাতই কান্ডজ্ঞানহীন ব্যক্তিদ্বয় দ্বাড়াই শুভা পায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এমই শিক্ষা পাবে।

এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌস আরা বেগমের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি জানান, সরকারী প্রতিষ্ঠানের নাম শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিয়মনীতি ব্যাতিরেকে কোন ব্যাক্তি বা কমিটি ইচ্ছা করলেই পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। অবশ্য আমার কাছে এখনও কোন নিমন্ত্রন পত্র পৌছায়নি। কোন সরকারী প্রতিষ্ঠান এমন অনিয়ম প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে ৯নং কলোনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধাণ শিক্ষক হালিম মাষ্টার জানান,অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন ভূল হয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে কমিটির কর্মকর্তারা ভাল বলতে পারবেন। আর স্কুলের নাম পরিবর্তনের তো প্রশ্নই উঠেনা।