আমাদের পুলিশেও কিছু খারাপ লোক রয়েছে- এডিঃ এসপি মেহেদী ইমরান

সিদ্ধিরগঞ্জ(আজকের নারায়নগঞ্জ):  নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-অঞ্চল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী অপরাধীদের সম্পর্কে হুশিয়ারী জানিয়ে বলেছেন, আপনারা কে, কি করেন, আমরা সব জানি, সময় থাকতে ভালো হয়ে যান, নইলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের গোদনাইল ২নং ঢাকেশ্বরী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ওপেন হাউজ ডে ও কমিউনিটি পুলিশিং মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো বলেন, সংবাদের তথ্য যে দেয় সেই আমাদের সোর্স বা উৎস। আপনারা সমাজের সচেতন লোকরা যদি অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন তাহলে দুষ্ট সোর্সরা সুযোগ পাবে না। সমাজে যেমন ভালো লোকের পাশাপাশি খারাপ লোক রয়েছে তেমনি আমাদের পুলিশ বাহিনীতেও কিছু খারাপ লোক রয়েছে। অপরাধী যেই হোকনা কেন তাকে প্রশাসন ছাড় দিচ্ছেনা। যা আপনার অবগত রয়েছেন। পুলিশের কাজ অপরাধীদের ধরে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা কিন্তু আদালত থেকে তারা জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসে পুনরায় অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরছে। তবুও আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার টিটুর সভাপতিত্বে উক্ত ওপেন হাউজ ডে ও কমিউনিটি পুলিশিং মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল আজিজ, নাসিক ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা, থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো: শাহ আলম, সাধারন সম্পাদক তাজিম বাবু, নাসিক ৪,৫,৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম, সাবেক কাউন্সিলর রেহেনা পারভীন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহজাহান ভুঁইয়া জুলহাস, গোদনাইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএ বারী, সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহআলম, থানা জাপা সভাপতি কাজী মহসিন ও গোদনাইল ইউপি স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি কাজী ওহিদ আলমসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রমূখ।

তিনি আরো বলেন, জঙ্গীবাদ এবং আগুন সন্ত্রাস ও নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে আমরা গুরুত্ব সহকারে কাজ করছি। ইতিমধ্যে জনসচেতনতার জন্য এলাকায় এলাকায় মাইকিং এবং লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। আপনাদের বাড়ীতে বাসা ভাড়া দেওয়ার পূর্বে ভাড়াটিয়ার পূনাঙ্গ বৃত্তান্তের তথ্য সংগ্রহ করে তারপর ভাড়া দিবেন। এছাড়াও তিনি সমাজের প্রত্যেকটি লোককে নিয়ে এলাকাকে মাদক মুক্ত করার জন্য সকলের প্রতি সহযোগিতা কামনা করেছেন। অপরদিকে মাদক সেবন এবং সরবরাহের সাথে যদি কোন সদস্য সম্পৃক্ত থাকেন প্রমান পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারী করেছেন।

এসময় উপস্থিত এলাকাবাসী অতিথিদের সামনে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। সমস্যা গুলোর মধ্যে মাদক এবং পুলিশের সোর্সদের কর্মকান্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

আব্দুর রহমান নামে আওয়ামীলীগের এক কর্মী বলেন, আমরা এলাকাবাসী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশে দেওয়ার দুই ঘন্টা পর তাকে এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়। তখন সে এলাকায় এসে সাধারণ মানুষদের বিভিন্ন রকম হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। পুলিশ টাকার বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ীদেরকে ছেড়ে দিচ্ছে। এতে করে মাদক ব্যবসায়ীরা আরো বেপরোয়া হয়ে যায়। জোবায়ের হোসেন মনসুর নামে এক ব্যাক্তি পুলিশের সোর্সদের কর্মকান্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশের সাথে যেসব সোর্স কাজ করে থাকে তারা সবাই কোন না কোন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তারা স্বার্থের বিনিময়ে অনেক সময় নিরপরাধ ও নির্দোষ ব্যক্তিদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে। তাদেরকে অনেক সময় পুলিশের টহল গাড়িতে দেখা যায়। আর এই কারনেই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসীন মিয়া বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতির বাড়ির সামনে মাদক বিক্রি হয়। আমরা এর প্রতিবাদ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। অথচ মাদক ব্যবসায়ীদেরকে কিছু বললে থানার কয়েকজন এএসআই এসে আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে শাসিয়ে যায়।

রোকসানা নামে এক গৃহিণী জানায়, চৌধুরীবাড়ি সিলেটিয়া বাড়ি এলাকার কেরামত আলী কেন্দুর মাদক সেবী ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ট আমরা। মাদক সেবী সেলিম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে এলাকার ঘরে ঘরে প্রবেশ করে ছোট বাচ্চাদের জিম্মি করে নেশার জন্য টাকা দাবী করে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন আগে আমরা থানায় অভিযোগ করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ এসে তদন্ত করে যায়। এর পরে কেন্দু এবং তার নেশাগ্রস্ত ছেলে সেলিম ও তার পরিবার মিলে আমাদের বাড়িতে এসে আমাদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেয়। এর আগে নেশার টাকার জন্য চলতি বছরের জানুয়ারির ২৩ তারিখে নিজ ঘরে আগুন দেয়। এতে তার নিজ ভাড়াটিয়ারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ঘটনাটি ওই সময় স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার টিটু তার বক্তব্যে বলেন, মাদকের সাথে আমার কোন আপোষ নাই। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। থানা কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক ইয়াসিন মিয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, সে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করলে ছাড়ানোর জন্য তদবির করে এবং শালিসও করে থাকে।