ট্রেন

– মঈন চৌধুরী

যে নয়নপুরে সূর্য ডোবে না
সেখানেই আমার নামার কথা ছিলো।
ট্রেনের ইঞ্জিন কয়লায় চলে
কয়লা-ধূলোতে চোখ অন্ধকার হয়,
আমি নয়নপুরে নামতে পারলাম না।

ট্রেন চলতেই থাকলো মাধাবী দোলায়
অসংখ্য পদ্মফুলের পর শেষ স্টেশন,
ওখানে পৌঁছে বোঝা গেল চোখ ঝরছে
পথ ও ট্রেন একই বিন্দুতে স্থির ইতিহাস।

চন্দ্র-ঋতুর স্রোত অবাধ্য ছায়া ফেললো মাটিতে
শব্দে শোনা গেল কান্নার বিপরীত সঙ্গীত
স্থির ও অস্থির বিন্দুর আপেক্ষিক সূত্র নির্মাণে
বোঝা গেল নয়নপুর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

শেষ স্টেশনের শেষ সাইনবোর্ডে অতঃপর
অন্ধকার দুর করা পেইন্টে লেখা হলো,
এখানে অনন্ত আলো, প্রতিফলিত সূর্যের গ্রাম,
যাত্রার শেষ পান্ত, নয়নপুর, যাত্রীরা নামো।