মদিনা মার্কেটে বেকারী ও খাবার হোটেলে ভ্রাম্যমান আদালত

আইন-আদালত(আজকের নারায়নগঞ্জ): নারায়নগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জের মদিনা মার্কেটের বেকারী ও খাবার হোটেল গুলোতে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমুন নেছা ও তানিয়া তাবাসসুম অভিযান পরিচালনা করেন।

কেক রুটির উৎপাদনের তারিখ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা কনফেকশনারি মালিক সবুজকে ৫ হাজার টাকা, রাব্বী বেকারীর মালিক মোহাম্মদ হোসেনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে মোহাম্মদ হোসেনের সন্তানের ক্যান্সার হওয়ার কারণে ২ হাজার টাকা মওকুফ করে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করার কারণে মদিনা মার্কেটের ৩টি রেস্তোরাকে জরিমানা করা হয়। এরমধ্যে মেসার্স বাদশাহ হোটেলের মালিক মোহাম্মদ হোসেনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। খাজা গরীবে হাউজ বিরিয়ানি হাউজে ম্যাজিস্ট্রেট প্রবেশ করলে রান্না ঘরের দরজা তালা বন্ধ করে রাখে। ম্যাজিস্ট্রেটদের জানানো হয় তারা বিরিয়ানী কিনে বিক্রি করে। পরবর্তীতে দরজা খুললে দেখা যায় সেখানে খাবার তৈরির সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। দেখা যায় নষ্ট ফ্রিজে মসলা রাখা হয়েছে । মসলায় মাছি ভনভন করছে। সবজি কেটে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে খাবার। বিরিয়ানি হাউজের মালিক মোহাম্মদ রফিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মা হোটেল এন্ড রেস্তোরা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে নিজেদের রান্না ঘর দ্রুত পরিষ্কার করে। কিন্তু না ঢেকে খাবার রাখা ছিল। ছিল মাছির ভনভন। নেই বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা। এসব কারণে মা হোটেল এন্ড রেস্তোরার মালিক নসরু চৌধুরীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বেকারী মালিকরা জানান, এই মার্কেটের সকল দোকান ভেঙ্গে ফেলা হবে। তাই তারা লাইসেন্স করেননি বলে জানান।

রেস্তোরার মালিকরা একই দাবি করে বলেন, মার্কেট ভেঙে ফেলা হবে এজন্য রান্না ঘরের মেরামত করা হয়নি। কিন্তু বছরের পর বছর রেস্তোরাগুলো এই পরিস্থিতিতেই চলছে।

ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমুন নেছা বলেন, সকল খাবার অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় তৈরী করা হচ্ছে । তারা চাইলে একদিনের মুনাফা দিয়ে স্থায়ীভাবে পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করতে পারেন। আর বেকারীতে তাদের খাবার তৈরি করা হয়েছে তারা নিজেরাই তার তারিখ বলতে পারেন নি। এজন্য ২ টা বেকারীতে মোট ৮ হাজার টাকা, এবং ৩টা রেস্তোরাতে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।