আমি মন্ত্রী হয়ে কেন শ্রমিকের পক্ষে কথা বলি- নৌ-মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার(আজকের নারায়নগঞ্জ):  নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান আক্ষেপ করে বলেছেন, সুশীল সমাজের অনেকে বলেন,আমি একজন মন্ত্রী হয়ে কেন শ্রমিকের পক্ষে কথা বলি। ওদের কথায় মনে হয় শ্রমিকেরা যেন কোন মানুষই না।
৯ সেপ্টেম্বর রোববার বিকালে পাগলা তালতলা নির্মানাধীন ট্রাক টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সমবেত শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এ বক্তব্য দেন।
তিনি প্রশ্ন করে বলেন, কেউ কি বলছে, আমি একজন মন্ত্রী হিসাবে ব্যার্থ? বলে নাই। কিন্তু শ্রমিকের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে আমাকে সমালোচিত হতে হয়েছে।
আপনারা কি চান আমি আপনাদের জন্যে সমালোচনায় পড়ি। আপনারা চান আমি আপনাদের পক্ষে কথা বলি ? মন্ত্রীর প্রশ্ন শুনে সমবেত শ্রমিকেরা হ্যা সূচক জবাব দিলে মন্ত্রী শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে পরামর্শ দিয়ে বলেন, তাহলেআমাকে যাতে সমালোচনায় না পড়তে হয় সেজন্যে আমার কিছ কথাও আপনাদের শুনতে হবে।
কথাটি হলো রাস্তায় গাড়ী চালানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তাহলে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে বলে আমি মনে করি। একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে আমি বলবো না,কারন গাড়ী চালানোর সময় কোন পথচারীর অসতর্কতায় যদি দুর্ঘটনা ঘটে যায় সেটাতো বন্ধ করা সম্ভব নয়।
আর যদি মনে হয় কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইচ্ছাকৃত মানুষের উপরে গাড়ী তুলে দেয় সেজন্যে তো হত্যা মামলা হতেই পারে। কিন্তু অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনার জন্যে বড় শাস্তি আমি চাই না।
আর চালক-শ্রমিকদের জন্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজে ভাবেন। তিনি এবার কেবিনেট মিটিংয়ে নিজ থেকেই বলেছেন,পরিবহন চালক বিশেষ করে ট্রাক চালকদের জন্যে হাইওয়ের পাশে টার্মিনাল করে দেয়া হবে,যাতে চলন্ত গাড়ী থামিয়ে নিরাপদে সেখানে বিশ্রাম নিয়ে ঠান্ডা মাথায় গাড়ী চালাতে পারে।
আর পাগলার ট্রাক টার্মিনাল এখানেই হবে । এর জন্যে যা করার দরকার আমি করবো।
তাই বলি প্রধানমন্ত্রী যখন আমাদের নিয়ে এত ভাবেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও তো আমাদের কিছু ভাবতে হবে। আগামী নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। এ জন্যে যা কিছু দরকার তাই করতে হবে। আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তার জন্যে কাজ করতে হবে। কারন এখনই সব চুড়ান্ত নয়।
কারন বিএনপি সরকারের সময় মাত্র ৩হাজার ৭শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো, আর শেখ হাসিনা বিগত ১০ বছরে ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যু সরবরাহ হচ্ছে।
গরীব মানুষের পরিমান ৪২ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন শেখ হাসিনা। আামী ৪/৫ বছরে দেশে একজনও গরীব থাকবে না।
আন্তঃজিলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধানবক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন আন্তঃজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন পাগলা শাখার সভাপতি ও জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় শ্রমিক কল্যান ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ। আরো উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর মোজাম্মেল হক জেলা শ্রমিকলীগের সিনিয়র সহসভাপতি এড.হুমায়ুন কবির, আন্তঃজিলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের পাগলা শাখার কার্যকরী সভাপতি বাবুল আহমেদ, সাধারন সম্পাদক জজ মিয়া,ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখা শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক এসএম হুমায়ুন কবির,কুতুবপুর ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম,আওয়ামীলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রাহাত,বাল্কহেড কার্গো ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান,ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্ট ওয়ার্কার নারায়নগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শাহাদত হোসেন সেন্টু,সাধারন সম্পাদক বিপ্লব আহমেদ রাজু প্রমুখ।