জবাই করে খুনের ঘটনা থেকে বেচেঁ গেল দুই শিক্ষার্থী

সিদ্ধিরগঞ্জ(আজকের নারায়নগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জ সদরের আনসার ভিডিপির দুই সদস্যের সাহসিকতায় নির্ঘাত হত্যাকাণ্ড থেকে রক্ষা পেয়েছে চাদপুরের দশম শ্রেণির ছাত্র পারভেজ ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শাকিব। বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কাঁচপুর শীতলক্ষ্যার তীরে তাদের হত্যার চেষ্টা চালায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত।

এর আগে তাদেরকে চাঁদপুরের কচুয়া সাচার স্কুলের কাছ থেকে অপহরণ করা হয়। তারা দুজনই ওই স্কুলের শিক্ষার্থী। পারভেজ চাঁদপুর জেলার কচুয়ার মঙ্গলমোড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে এবং শাকিব একই গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সোনারগাঁও থানার কাঁচপুর সেতুর নিচে আনসার ভিডিপির দুই সদস্য আল মামুন ও জহিরুল ইসলাম টহল দিচ্ছিলেন। এসময় তারা দুজনই একটি পিকআপ ভ্যান দেখে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের দেখে পিকআপ ভ্যানটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তারা দুজন দৌড়ে গিয়ে পিকআপ ভ্যানটি থামানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাদের দিকে ধারালো অস্ত্র হেঁকে পালিয়ে যায়।

আনসার ভিডিপির সদস্য আল মামুন ও জহিরুল ইসলাম জানান, দুর্বৃত্তরা আগেই শাকিব নামের একজনকে নিচে নামিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছিল। অপর শিক্ষার্থী গাড়িতেই ছিল। এ অবস্থায় আমরা এগিয়ে গেলে গাড়িটি পালিয়ে যাওয়ার সময় অপর শিক্ষার্থীকে গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে যায়।

এদিকে, ওই দুই স্কুল শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে প্রথমে কাঁচপুর ব্রিজ ক্যাম্পে পরে সেখান থেকে ক্যাম্প ইনচার্জ ওমর ফারুক তাঁদেরকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আনসার ভিডিপি’র কার্যালয়ে (হাজিগঞ্জ) নিয়ে আসেন। পরে তাঁদের অভিভাবকদের খবর দিলে চাঁদপুর থেকে শাকিবের মা সাফিয়া বেগম ও পারভেজের বাবা আব্দুর রহিম আনসার ভিডিপি’র কার্যালয়ে ছুটে আসেন।

সাফিয়া বেগম জানান, “শাকিব সকাল বেলা তাঁর ছোট ভাইয়ের জন্য নাস্তা আনতে দোকানে গিয়েছিল। এরপর থেকে তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে এখান থেকে খবর দিলে আমরা ছুটে আসি।”

শিক্ষার্থী পারভেজ জানায়, শাকিব আর সে তাঁদের স্কুল কচুয়া সাচার উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে কাছেই ছিলো। এসময় কয়েকজন লোক এসে বলে, ম্যানেজিং কমিটির লোক যেতে বলেছে। এর পরপরই তারা আমাদের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে গাড়িতে ওঠিয়ে নেয়। সারাদিন বিভিন্ন স্থানে আমাদের নিয়ে ঘুরে রাতে এখানে এনে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় তারা প্রথমে শাকিবকে নামিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালায়।

শাকিব জানায়, “অপহরণকারীরা তাকে দিয়ে তাঁর মামার কাছে ফোন করিয়ে ‘গাজীপুর আছি’ বলতে বাধ্য করায়। তারা আমার গলা কাটার জন্য নদীর পাড়ে নামাইছিল।”

এদিকে, সাহসিকতার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আনসার সদস্য আল মামুন ও জহিরুল ইসলামকে জেলা কমান্ডার মো. নূরুল আফসার নগদ অর্থ দিয়ে পুরস্কৃত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার অজিৎ কুমার। পরে উদ্ধারকৃত দুই শিক্ষার্থীকে তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়া হয়।