সিয়াম হত্যা মামলার রায়ে ৩ জনকে যাবজ্জীবন, ফারুক মন্ডল খালাস

আইন-আদালত(আজকের নারায়নগঞ্জ): ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার আদর্শ স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির মেধাবী ছাত্র চাঞ্চলকর আরাফাত রহমান সিয়াম হত্যা মামলার রায়ে আদালত ৩ আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ৭ বছরে কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া রায়ে আদালত ৩ জনকে খালাস প্রদান করেছেন।

দন্ডিত আসামীরা হলো মেহেদী, আসলাম ও হালিম। আর খালাস প্রাপ্তরা হলো- ফারুক মন্ডল, তার স্ত্রী মেরিনা মন্ডল ও বিপ্লব।

মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: আনিসুর রহমান এ রায় ঘোষনা করেন।

রায় ঘোষনার পর চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহত সিয়ামের বাবা মোস্তফা মাদবর বলেন, আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।

উল্লেখ ১৩ আগষ্ট এই রায় ঘোষনার দিন ধায্য ছিল। কিন্তু ওই দিন আদালত রায় ঘোষনার তারিখ পরিবর্তন করে ৪ সেপ্টেম্বর ধার্য করেন। নিহত শিশু সিয়াম ফতুল্লা মাসদাইর ঘুদারাঘাট এলাকার ব্যবসায়ী মোস্তফা মাদবরের ছেলে।

জানা যায়, কবুতর কেনার টাকা না দেয়ায় ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর মাসদাইরে আদর্শ স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র আরাফাত হোসেন সিয়ামকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মেহেদী মন্ডল। হত্যাকান্ডের সময়ে ও পরে লাশ গুমে সহযোগিতা করে ঘাতক মেহেদী মন্ডলের বাবা ফারুক মন্ডল ও তার মা মেরিনা মন্ডল। এরপর ২৩ নভেম্বর সিয়ামের বস্তাবন্দী লাশ মুন্সিগঞ্জের শান্তিনগর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

সিয়াম মাসদাইর এলাকার মোস্তফা মাতবরের ছেলে। ওই হত্যা মামলার আসামীরা হলো মাসদাইর পাকাপুল এলাকার মেহেদী মন্ডল, তার বাবা ফারুক মন্ডল, মা মেরিনা মন্ডল, মাসদাইরের আরমান মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্দুল মতিনের পুত্র ভ্যানচালক আসলাম, শ্রমিক হালিম ও বিপ্লবকে আসামী করা হয়েছে।

মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন ফতুল্লা মডেল থানার এসআই সোহেল আলম। তিনি বদলীর পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন এসআই মোঃ আবুল বাশার। পরবর্তীতে তদন্তের পর ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ তদন্তকারী কর্মকর্তা ৬ জনকে অভিযুক্ত করে এসআই গোলাম মোস্তফা আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। তিনি চার্জশীটে ২৯ জনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেন। যার মধ্যে ২২ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে। আসামীদের মধ্যে মেহেদী মন্ডল, হালিম ও বিপ্লব জেলহাজতে রয়েছে। আসামী আসলাম বিদেশে পালিয়ে গেছে। অপর দুই আসামী ফারুক মন্ডল ও তার স্ত্রী মেরিনা মন্ডল জামিনে রয়েছে।