গিটার লিজেন্ড এনামুল কবিরের আত্মজীবনী ‘আমার সঙ্গীত আমার জীবন’

– দেলওয়ার এলাহী

এনামুল কবির হাওয়াইয়ান গিটার বাদনে নিজেই শুধু দেশ বিখ্যাত হয়ে ওঠেননি, বরং এই যন্ত্রটি বাদনের শিক্ষা দিয়েছেন দেশের অগণিত বাদককে। স্বাধীন বাংলাদেশের দেশ ও জাতীয় চেতনার উদ্দীপনামূলক গানের তিনিই একমাত্র স্বপ্রণোদিত দায়িত্বশীল স্বরলিপিকার যিনি নিজের তাগিদে আমাদের রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গানের মতো শক্তিশালী মাধ্যমকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সঠিক ও নির্ভুলভাবে পরম্পরায় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্বরলিপি প্রকাশ করে চলেছেন। রাষ্ট্রের কোন প্রতিষ্ঠান তাঁকে এ কাজে নিয়োগ করেন নি। বরং তিনি নিজেই এই কাজের নিজেকে প্রতিষ্ঠানে অধিষ্ঠিত করেছেন। রাষ্ট্র তথা আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ, ঋণী। আমি আশা করবো রাষ্ট্র এনামুল কবির মানিককে উপযুক্ত সম্মাননা দিয়ে আমাদের এই ঋণকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করবেন।

এনামুল কবির বিভিন্ন ধরনের বাংলা গানের, যেমন : দেশাত্মবোধক, আধুনিক, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুল, হাছনরাজার গান, পল্লীগীতি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী হারানো দিনের গান সহ বিভিন্ন ধরনের গানের তেইশটি স্বরলিপি গ্রন্থ প্রকাশ করে আমাদের গানের শাখায় অসামান্য অনদান রেখেছেন।

অসংখ্য গিটার বাদনের ক্যাসেট ও সিডি প্রকাশ করে গিটারে বাংলা গানকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিয়ে জনপ্রিয় করে তুলেছেন।
‘আমার সংগীত আমার জীবন’ এনামুল কবিরের আত্মজীবনী। এই যাদুকরী বইটি পড়তে পড়তে একটি কথা আমার আবারও মনে হয়েছে, শিল্প সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা বা খ্যাতি অর্জন এক বিষয় আর শিল্পের সাধক হয়ে ওঠা আরেক। আর কে না জানে একাগ্র নিষ্ঠা আর সততার প্রতি অন্বিষ্ট না থাকলে সেই সাধক হওয়া যায়না।

দুঃখ কষ্ট, হাসি আনন্দ, উত্থান পতন, জরাজীর্ণতা নিয়েই মানুষের জীবন। মানিকও এর ব্যতিক্রম নন। তাঁর জীবনের সাজানো বাগানের ফুল ঝরার দুঃখও তাঁকে বহন করতে হয়েছে একান্তে। প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ জাহান ডলির মৃত্যু তাঁকে শূন্য হৃদয়ের হাহাকার এনে দিয়েছিল। প্রিয় জনেরা কাছে থেকে তাঁর সান্ত্বনার অবলম্বন হয়েছেন। বেঁচে থাকা একমাত্র পুত্র (তাঁদের আরেকটি পুত্র সন্তান রোগাক্রান্ত হয়ে গত হয়েছেন) এনায়েত কবির চঞ্চলের অকাল মৃত্যু তাঁদের পরিবারে শোকের মাতম এনে দিয়েছিল। নির্বাক কবির পরিবার এখন প্রিয়জনের সান্নিধ্য সান্ত্বনার অবলম্বন ও ভালোবাসায় প্রকৃতির আপন লীলা খেলাকে মেনে নিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর ডুমুরিয়া গ্রামের মিয়া ভাইয়ের সন্তান এনামুল কবির আজ আমাদের সংগীতের এক মহীরুহ। এই মহীরুহের ছায়ায় আমরা আরো অনেকদিন সংগীতের মুর্ছনায় মোহিত হবো এই প্রত্যাশা করি কায়মনোবাক্যে।