সেদিন চাইলেন ধানের শীষ,আজকে চাইছেন নৌকা !

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ সেদিন ছিল ছিল শুক্রবার, তারিখ ছিল ১৬ নভেম্বর,২০১৮ সন। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের প্রত্যাশা করে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন কুতুবপুরের চেয়ারম্যান বিএনপির দাপুটে নেতা মনিরুল আলম সেন্টু  ।

সেই আবেদনপত্রে বিএনপির কার্যক্রম চালাতে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম,ক্ষমতাসীন দলের রোষানলে পড়ার চিত্রও তুলে ধরেছিলেন সেন্টু। আরো লেখা ছিল বিএনপির ভোট ব্যাংক কুতুবপুরসহ পুরো ফতুল্লায় তার জনপ্রিয়তার কথাও।

ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন লাভের জন্যে জনৈক সাংবাদিক নেতার মধ্যেস্থতায় মোটা অংকের তহবিলও দান করেছিলেন বিএনপিকে।

সে সময় বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বর্তমান এমপি শামীম ওসমানের চেয়েও তিনি জনপ্রিয় এবং সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমানকে হারিয়ে দেয়ার সক্ষমতাও তার রয়েছে এমন তথ্যও তিনি সেই ধানের শীষ প্রত্যাশী আবেদনপত্রে উল্লেখ করেছিলেন অবশ্যই। পরে অবশ্য সে নির্বাচনে বিএনপি তাদের জোটের পক্ষে কাশেমীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। ফলে তার ধানের শীষের প্রতীক পাওয়া আর হয়নি।

এর মধ্যে নাশকতার মামলায় আদালতে চার্জশীট জমা হওয়ায় তার চেয়ারম্যান পদও যায় যায় অবস্থা হয়েছিল।

তবে তখনও হয়তো মনিরুল আলম সেন্টু নিজস্ব ভাবনায় নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার জন্যে মনোনয়ন চাইবেন তা নিশ্চয়ই ভেবে দেখেননি। তার ভাবনায় ছিল অদুর ভবিষ্যতে আবারো বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এবং তিনি বড় আসনে জনপ্রতিনিধি হিসাবে রাজত্ব করবেন।

কিন্তু যতই দিন গেছে ততই এমপি শামীম ওসমানের উপরে নির্ভরশীল হয়ে যাওয়া মনিরুল আলম সেন্টু এবার কোন পথ না পেয়ে সরাসরি নৌকায় চড়ে উঠার জন্যে তোড়জোর শুরু করে দিলেন।

আজ ৯ অক্টোবর ২০২১ সন। ৩ বছরের ব্যবধানে পাল্টে গেছেন তিনি।

উপরমহলের আশীর্বাদে রাতের আধারে আওয়ামীলীগ সদস্য বানিয়ে এককপ্রার্থী হিসাবে কেন্দ্রে নাম পাঠানোর তেলেসমাতি কান্ড ঘটিয়ে ফেললেন।  সেই একই কায়দায় তোফার প্য্যাকেটে।  যদিও কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য ফরম স্থানীয় কোন নেতাকর্মীও পূরন করতে পারেনি বলে জানা গেছে। যে কারনে ক্ষুদ্ধ যুবলীগ নেতা আবদুল খালেক নৌকা না পেলে স্বতন্ত্র হিসাবে আনারস নিয়ে নির্বাচনের ঘোষনা দিয়েছেন।

ঠিক ৩ বছর পরে সেই বিএনপি নেতা মনিরুল আলম সেন্টু নৌকা প্রতীকের জন্যে দলীয় আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন চুপি চুপি।

তবে তবে প্রশ্ন উঠেছে বিএনপির সেই দাপুটে ক্যাডার নেতা মনোনয়পত্রের আবেদনপত্রের কলামে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তার কর্মকান্ডের কি বিবরন দিয়েছেন। যখন তার নেতৃত্বে নির্যাতিত হওয়ার স্মৃতি এখনো দাগ কেটে আছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মনে। আওয়ামীলীগের সেই মেছের হত্যার ঘটনাও তার পরিবারকে কষ্ট দেয়। এ অবস্থায় তৃনমূলের ত্যাগি নির্যাতিত নেতাদের বাদ দিয়ে বিএনপির নেতা সেন্টুর নাম কেন্দ্রে পাঠানোয় বিস্মিত হয়েছে সকলেই। তারা ভাবতেই পারছে না দলের ইমেজধারী নেতারা এতটাই উলঙ্গ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে নেতাকর্মীদের ঘাড়ে।

ইতিমধ্যে সেন্টু ও নৌকা বিষয়টি নিয়ে সর্বমহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। প্রশ্ন উঠেছে আওয়ামীলীগের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়েও। তৃণমূলে চলছে বোবা কান্না। তবে ৯ অক্টোবর বিকাল ৪টার মধ্যেই নিশ্তিত হওয়া যাবে কেন্দ্র থেকে নৌকার জন্য কে বিবেচিত হতে যাচ্ছে।