ফ্রেন্ডস সার্কেল ফতুল্লার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আজকের নারায়নগঞ্জ :   ফ্রেন্ডস সার্কেল ফতুল্লা এখন শুধু একটা সমমনা বন্ধুদের আড্ডা খানাই নয়। এর মাধ্যমে গড়ে উঠছে সেই অতীতের পরিবার টু পরিবারের বন্ধন,শৃঙ্খলা,আন্তরিকতা,ভদ্রতা,সামাজিকতা আর সেই আমাদের ছোটবেলার আদব-কায়দা রপ্ত করার একটা মেলবন্ধন।

ফ্রেন্ডস সার্কেল ফতুল্লা এখন এমনি এক সংগঠনের পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যেখানে সমাজের বয়োবৃদ্ধরাও যেমন আশা করে আবার এলাকার গরীব-দুঃখী অসহায় পরিবারগুলোও বিভিন্ন পার্বন ছাড়াও বিপদে-আপদে সামান্য সাহায্যের আশায় তাকিয়ে থাকে তীর্থের কাকের মত। সাধ্যের ভেতরে ফ্রেন্ড সার্কেল ফতুল্লার সদস্যরাও সংগঠনের প্রাণভোমরা সভাপতি লুৎফর রহমান স্বপনের নেতৃত্বে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে কার্পন্যবোধ করে না। এ ছাড়াও সংগঠনের উপদেষ্টা শিল্পপতি আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিনসহ ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপনের সার্বিক সহযোগিতাও সংগঠনের ডালপালা দিনকে দিন বেড়েই চলছে।

এ অবস্থায় ২৯ আগষ্ট বুধবার ছিল ফ্রেন্ডস সার্কেল ফতুল্লার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সেই দিনটিকে ঘিরে সংগঠনের সদস্যরা মেতে উঠেছিল অন্যরকম উৎসবে। নির্ধারিত ছিল সংগঠনের পুরো পরিবারই পাহাড়-সাগরে ভরপুর বান্দরবান-কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উৎসব উদযাপন করবে কেক কাটার মাধ্যমে। যেই কথা সেই কাজ। কিন্তু কয়েকজন সদস্য স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজে ব্যাস্ত থাকায় ৬৫ জনের বহর নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম ২৭ আগষ্ট সোমবার রাতে।

তবে সিদ্ধান্ত ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উৎসব পালনে কেক কাটার পর্বটি কক্সবাজার সি-ওয়ার্ল্ড হোটেল এবং ফতুল্লার সংগঠনের কার্যালয়ে একই সময়ে উদযাপিত হবে। তাই ফতুল্লায় যারা রয়ে গেল তাদের মধ্যে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার হোসেন,প্রচার সম্পাদক জয়নাল আবেদীন,ক্রীড়া সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টু,অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদল,দপ্তর সম্পাদক বিশ্বজিৎ বাড়ৈ দেবন,মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক রোকসানা আক্তার শীলা,কার্যকরী সদস্য রুহুল আমিন প্রধান,সদস্য এড.মশিউর রহমান শাহিন,মোখলেসুর রহমান,শাহ আলম,হাসান তালুকদার মাসুমসহ পরিবারের সদস্যরা ফতুল্লা কার্যালয়ে কেক কেটে উৎসব পালন করে। কার্যালয়টি রঙিন লাইটে আলোকিত করা হয়।

অপরদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে গিয়ে ফ্রেন্ডস সার্কেল ফতুল্লারউপদেষ্টা সদস্য হাজী গিয়াসউদ্দিন,ফতুল্লার ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপনসহ সভাপতি লুৎফর রহমান স্বপন,সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান অনু,সহসভাপতি আবুল বাশার সিদ্দিকী,যুগ্ম সম্পাদক সেলিম মুন্সী,সমাজ কল্যান সম্পাদক মুজিবুর রহমান, কার্যকরী সদস্য শাহিন আলম জাহাঙ্গীর আলম,মাঊনুদ্দিন সরকার,গোলাম ফারুক মিল্টন,জহির, মোহন মিয়া। এ ছাড়া গুরু মাহতাব ভাই,  ছোট ভাই সানোয়ার হোসেন জুয়েল,শিপলু ছিল কক্সবাজার-বান্দরবানে।

তবে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় আমাদের সকলের পরিবারের স্ত্রী-সন্তানেরা বিশেষভাবে ফ্রান্স থেকে আসা বন্ধু রকিবের ছোট ছেলেরা। সাথে আমাদের জামাই টিপু।

বান্দরবানের নীলাচল আর স্বর্নমন্দির ভ্রমন শেষে ২৯ আগষ্ট সকালেই আমাদের কক্সবাজারের হোটেল সি-ওয়াল্ডের উদ্দেশ্যে রওয়ানাই ছিল মূল আকর্ষন। কারন সেখানে গিয়ে দুপুরের খাওয়া শেষে রাতেই ছিল মূল অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানকে সাফল্যমন্ডিত করতে গিয়ে বাশার,সেলিম,জহিরসহ সকলের পরিবারের সদস্যরা শ্রম দিয়েছে আন্তরিকভাবে। সেখানে কেককাটার পাশাপাশি ছিল র‌্যাফেল ড্র। সংগঠনের চতুর্থবর্ষে এসে এতবড় অনুষ্ঠানের আয়োজনে সকলের আন্তরিকতা ছিল,তবে উপদেষ্টা হাজী গিয়াসউদ্দিনের ঐকান্তিক ইচ্ছে আর সভাপতি লুৎফর রহমান স্বপনের অবদান ছিল নজরকাঁড়া।

পাহাড়-পর্বত ডিঙ্গিয়ে সমুদ্রে পাহাড়সমান ঢেউয়ের ভেতরে দাপাদাপি আর সাতার কাটার আনন্দ উপভোগ শেষে শনিবার ভোরে সকলেই সুস্থশরীরে বাড়ীতে ফেরত আসাও ছিল লক্ষ্যনীয়। আগামী আরো আনন্দমুখর উৎসব উদযাপনের প্রত্যাশায়,,,,